হোস্টিং কি?

হোস্টিং হল একটি স্পেস যা ইন্টারনেট ব্যবহার করে অ্যাক্সেস করা যায় এবং এখানে একটি ওয়েবসাইটের সকল ফাইল হোস্ট করা থাকে। আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট ভিজিট করেন তখন আপনি বিভিন্ন ডিজাইন, টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও ইত্যাদি দেখতে পান। ওয়েবসাইটের এই ফাইলগুলো হোস্টিং-এ স্টোর করা থাকে।

আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তখন ওয়েবসাইটের এই ফাইলগুলো কোনো এক জায়গায় স্টোর করে আপনার ওয়েবসাইট লাইভ করতে হবে। আপনি চাইলে আপনার লোকাল কম্পিউটারে স্টোর করেও লাইভ করতে পারেন। তবে আপনার লোকাল কম্পিউটার সবসময় অন করে ইন্টারনেটে সংযোগ দিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো এমন একটি কম্পিউটারে হোস্ট করে রাখতে হবে যা সবসময় অ্যাকটিভ থাকবে এবং ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া থাকবে। হোস্টিং হচ্ছে এমন একটি কম্পিউটার যা সবসময় অনলাইন থাকবে। ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে এমন একটি স্পেস যা কোন ওয়েব সার্ভারে থাকে। ওয়েব সার্ভার এ সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ থাকে যার ফলে খুব সহজেই যে কোন স্থান থেকে নির্দিষ্ট প্রোটকল ব্যবহার করে যে কেউ ওয়েব সাইট ভিজিট করতে পারে।

কেন ওয়েব হোস্টিং ব্যবহার করতে হয়?

কোন ওয়েব সাইট কে তার ভিজিটরদের সামনে নিয়ে আসতে সেই ওয়েব সাইটটি কোনো হোস্টিং এ হোস্ট করতে হয়। আপনি আপনার লোকাল কম্পিউটারে ওয়েবসাইটের ফাইল আপলোড করলে, আপনার কম্পিউটার যদি ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় অথবা কম্পিউটার বন্ধ থাকে তাহলে ওয়েবসাইট ডাউন থাকবে। তাই ওয়েব সাইটের ফাইলগুলো কোনো ওয়েব হোস্টি-এ হোস্ট করতে হয়। ওয়েব হোস্টিং এর সার্ভার গুলো ২৪ ঘণ্টাই অন থাকে এবং ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া থাকে। ফলে ওয়েবসাইট ডাউন হওয়ার ভয় থাকে না। কোনো ডোমেইন হোস্টিং এর সাথে কানেক্ট করে ওয়েবসাইট লাইভ রাখা হয়। নেমসার্ভারের মাধ্যমে ডোমেইন হোস্টিং এর সাথে কানেক্ট করতে হয়। বিস্তারিত জানতে এই গাইডটি দেখতে পারেন নেমসার্ভার পরিবর্তনের মাধ্যেমে কিভাবে আপনার ডোমেইনটি হোস্টিং এর সাথে কানেক্ট করবেন?

ডোমেইন হোস্টিং এর সাথে কানেক্ট করার পর কেউ ডোমেইন ভিজিট করলে ডিএনএস সিস্টেমের মাধ্যমে হোস্টিং থেকে ফাইলগুলো অ্যাকসেস করে ওয়েবসাইট ভিজিটরের সামনে দেখাবে। আপনি এখান থেকে দেখতে পারেন ডিএনএস কি এবং কিভাবে কাজ করে?

কেন পেইড হোস্টিং ভালো?

হোস্টিং সাধারণত পেইড হয়ে থাকে । তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ফ্রি হোস্টিং অফার করে থাকে। ফ্রি হোস্টিং গুলো তে ওয়েবসাইট হোস্ট করা গেলেও এতে বিভিন্ন রকম প্রতিবন্ধকতা থাকে যেমন খুব কম পরিমান স্পেস ব্যবহার করা যায়। অনেক সময় সার্ভার থেকে বিভিন্ন ধরনের রিকয়ারমেন্টের প্রয়োজন হলে তা ঠিক ভাবে পাওয়া যায় না। সার্ভার প্রয়োজন এর তুলনায় অনেক কম পাওয়ারফুল হয়। সার্ভারের লোডিং টাইম অনেক বেশি হতে পারে। সার্ভার লোড নিতে না পারায় অনেক সময় টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। তখন ফ্রি হোস্টিং-এর ক্ষেত্রে ভালো সাপোর্টও পাওয়া যায় না।অনেক সময় যে পরিমান স্পেস দেবার কথা থাকে তা সঠিক ভাবে পাওয়া যায় না। এছাড়াও কোন সমস্যা হলে তার সমাধান পাওয়া যায় না। আর মূল বিষয় হল সিকিউরিটি, ফ্রি হোস্টিং গুলোর সিকিউরিটি ব্যবস্থা অনেক দুর্বল হয়ে থাকে যার ফলে যেকোনো সময় ডাটা বা সাইট এ আনথরাইজড এক্সেস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । এছাড়াও কোন সমস্যা বা কোন কারনে ডাটা সার্ভার থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়ার আশঙ্খা তো আছেই। এছাড়াও আরও কিছু বিষয় হলো এসব হোস্টিং এর সব রকম এক্সেস কাস্টমার পায় না। যে কারণে এধরনের হোস্টিং ব্যবহার করে গ্রাহক তার সব রকম কাজ এর চাহিদা মেটাতে পারে না ।

এক্ষেত্রে পেইড হোস্টিং-এ এই সমস্যাগুলো হয় না। একজন কাস্টমার তার হোস্টিং এর ফুল অ্যাকসেস পেয়ে থাকে। হোস্টিং স্পিড ভালো পেয়ে থাকে। যেকোনো সমস্যা হলে সাপোর্ট পেতে পারে। যেমন আইটি নাট হোস্টিং-এ সকল কাস্টমারদের 24/7 সাপোর্ট দেওয়া হয়। সার্ভার থেকে কোনো রিকোয়ারমেন্ট এর প্রয়োজন হলে সাপোর্টে যোগাযোগ করে তার সমাধান করে নিতে পারে। পেইড হোস্টিং এ সিকিউরিটি ব্যবস্থাও অনেক ভালো হয়। ভালো প্রোভাইডার থেকে পেইড হোস্টিং নিলে ডাটা হারিয়ে যাওয়া নিয়েও টেনশন করতে হয় না। এখান থেকে আপনি আইটি নাট হোস্টিং এর হোস্টিং প্যাকেজগুলো দেখতে পারেন।

এতক্ষণ আমরা হোস্টিং কি এবং এর বিভিন্ন দিক গুলো সম্পর্কে জানলাম। এখন আমরা জানব ডোমেইন কি এবং এর বিস্তারিত।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn