You are currently viewing পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কি? জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার

পাসওয়ার্ড অনেক গোপন একটি বিষয়। যে কোনো মূল্যে পাসওয়ার্ডের মত মূল্যবান বিষয়কে সুরক্ষিত রাখতে হয়। প্রয়োজনের তাগিদে আমরা যে পরিমাণ অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করি তার সবগুলোর লগইন ডাটা মনে রাখা অসম্ভব। এই কারণেই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার টুলের অগ্রযাত্রা। আমাদের আজকের লেখায় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কি, কীভাবে কাজ করে এবং এর সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে ধারণা লাভ করবো।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কি?

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনলাইন বা অফলাইনে অনেক ধরনের অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ব্যবহার করি। বিশেষ করে কোন কিছু অর্ডার করার জন্য বা কোন ওয়েবসাইট থেকে সার্ভিস নেওয়ার জন্য অ্যাপ বা ওয়েব অ্যাপ প্রয়োজন পরে। অ্যাপ বা ওয়েবসাইট নির্মাতারা তাদের কাস্টমারদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালু করেছে। আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে অ্যাকাউন্ট করবেন তখন সেখানে আপনার একটি প্রোফাইল হবে। যে প্রোফাইলের মাধ্যমে আপনি উক্ত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন। 

তো বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যখন অ্যাকাউন্ট তৈরি করা শুরু করবেন তখন কিন্তু আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড দিতে হবে। একই ধরনের পাসওয়ার্ড দিলে হ্যাকার কোন একটি সাইট বা অ্যাপ হ্যাক করতে পারলে আপনার বাকি অ্যাকাউন্টগুলোর অ্যাক্সেস পেয়ে যাবে। ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড দিতে হয়। 

একজন মানুষের যদি ৫০ টা অ্যাকাউন্ট থাকে এবং প্রত্যেকটিতেই যদি আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড থাকে তাহলে কি টা মনে রাখা সম্ভব? অন্যদিকে মনে থাকার মত সহজ বা একই ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে তা হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সকল ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য সব থেকে কার্যকরী সমাধান হলো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা। 

মোটকথা, একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সকল ধরনের পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট ও সংরক্ষিত করে রাখার যে পদ্ধতি তাকে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার বলে। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার একটি মাস্টার পাসওয়ার্ড দ্বারা এনক্রিপ্ট করা থাকে। এতে উক্ত ভল্ট এর ভেতরে থাকা পাসওয়ার্ড এবং নোটস হ্যাকার এবং ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক থেকে নিরাপদ থাকে। তাছাড়া অনলাইন টুল হলে তা ইন্টারনেট কানেকশন আছে এরকম সকল ডিভাইস থেকে লগইন করে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যায়। 

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কিভাবে কাজ করে?

যেহেতু পাসওয়ার্ড অনেক গোপন একটি জিনিস সেহেতু এটি যাতে কোন ভাবে এর মালিক ছাড়া অন্য কেউ অ্যাক্সেস করতে না পারে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হয়। প্রতিটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার zero-knowledge architecture নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। 

এই পদ্ধতিতে মাস্টার পাসওয়ার্ড একটি এনক্রিপটর এবং ডিক্রিপ্টর হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ। আপনি যখন আপনার পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপে মাস্টার পাসওয়ার্ড যোগ করেন তখন তা পুরো পাসওয়ার্ড ভল্ট (যেখানে পাসওয়ার্ড সংরক্ষিত থাকে) কে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। পুনরায় যখন আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট দিয়ে উক্ত ভল্ট অ্যাক্সেস করতে চাইবেন তখন আপনাকে উক্ত মাস্টার পাসওয়ার্ড দিয়ে ডিক্রিপ্ট করতে হবে। 

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সর্বোচ্চ সিকিউরিটি প্রদান করার জন্য তাদের সার্ভারে মাস্টার পাসওয়ার্ড সংরক্ষিত করে না। কারণ কোন কারণে যদি তৃতীয় পক্ষ সেই পাসওয়ার্ড পেয়ে যায় তবে ইউজারের সকল লগইন ডাটা এবং পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে যাবে। 

ভল্ট এর সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ডাটা এনক্রিপ্ট করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্নরকম অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। এছাড়া তারা অ্যাপে মাল্টি ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট, সিকিউরিটি কি, ফেস লক, টু স্টেপ ভেরিফিকেশন ইত্যাদি ফিচার ব্যবহার করে। 

বর্তমান সময়ে প্রায় সব পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ তাদের সিস্টেমে শক্তিশালী এবং কঠিন পাসওয়ার্ড জেনারেট করার সুবিধা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি যখন নতুন কোন অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইবেন তখন সেখানে কঠিন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড জেনারেট করে আপনাকে দেওয়া হবে। আপনি চাইলে নিজের পছন্দ মত পাসওয়ার্ড দিতে পারবেন অথবা সাজেস্ট করা পাসওয়ার্ড দিতে পারবেন। 

পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের সুবিধা অসুবিধা

নিচে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের সুবিধা ও অসুবিধা বর্ণনা করা হলো। 

সুবিধা 

  • পাসওয়ার্ড ম্যানেজার আপনাকে পাসওয়ার্ড মুখস্থ করে মনে রাখার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিবে। আমরা অনলাইনে বিভিন্ন প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট খুলি। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড মনে রাখা অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়। কিন্তু পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ইউজ করলে আপনি সব পাসওয়ার্ড সেখানে জমা করে রাখতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনার যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে কপি করে ব্যবহার করবেন। 
  • আপনি একই সাথে আপনার মোবাইল, ডেক্সটপ এবং ল্যাপটপে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ ক্লাউড নির্ভর হওয়ায় অনলাইনে যে কোনো জায়গা থেকে যে কোনো ডিভাইস দিয়ে অ্যাক্সেস করা যায়। 
  • অটো জেনারেট ফাংশনের মাধ্যমে এই অ্যাপ গুলো শক্তিশালী এবং ইউনিক পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারে। এই পাসওয়ার্ডগুলোয় সংখ্যা, অক্ষর এবং চিহ্ন থাকে যা অনুমান করা একেবারেই অসম্ভব। এই কারণে অটো তৈরি হওয়া পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অনেক নিরাপদ। 
  • পাসওয়ার্ড ম্যানেজার টুল গুলো স্প্যাম এবং ফিশিং লিংক সম্পর্কে অ্যালার্ট প্রদান করে। টুলগুলো কোন ফিশিং সাইট ডিটেক্ট করতে পারলে সেখানে তাদের অটোফিল ফিচার বন্ধ করে রাখে। এতে পাসওয়ার্ড চুরি হওয়ার সম্ভাবনা একদম কমে যায়। 
  • পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপগুলো সময় বাঁচাতে সাহায্য করে। বেশিরভাগ টুল গুলো অটো কাজ করে অর্থাৎ আপনি যখন কোন নতুন অ্যাকাউন্ট খুলবেন তখন সেই অ্যাকাউন্ট ডাটা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার টুলে অটোমেটিক সেভ হয়ে থাকবে। অন্যদিকে নতুন করে লগইন করতে চাইলে সেখানে অটোফিল ফিচারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ডের ঘর লগইন ডাটা দিয়ে পূরণ হয়ে যাবে। 

অসুবিধা

  • সব ধরনের পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সব ধরনের ডিভাইস এবং অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট করে না। এই কারণে আপনাকে দেখে শুনে তারপর উপযুক্ত অ্যাপ নির্বাচন করতে হবে। অন্যথায় পাসওয়ার্ড এর নিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পরবে। 
  • সঠিক মাত্রার এনক্রিপশন ব্যবহার না হলে সেখানে হ্যাকার পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের অ্যাক্সেস নিয়ে নিতে পারবে। কিছু কিছু টুল  AES 256 bit এনক্রিপশন ইউজ করলেও কিছু কিছু টুল আরও লো লেভেলের সিকিউরিটি ব্যবহার করে। 
  • মাস্টার পাসওয়ার্ড থাকায় সিকিউরিটির দিক দিয়ে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা ১০০% সেফ না। কারণ কোন থার্ড পার্টি মাস্টার পাসওয়ার্ডের অ্যাক্সেস পেয়ে গেলে সে পাসওয়ার্ডের খনি খুঁজে পাবে। 

কয়েকটি জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার

নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

LastPass লাস্টপাস একটি পুরস্কার বিজয়ী টুল। এতে AES 256 bit এবং PBKDF2 encryption keys ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে এর সিকিউরিটি অনেক শক্তিশালী। এটি একটি ক্রস প্ল্যাটফরম পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। আধুনিক যুগের সকল ধরনের সিকিউরিটি ফিচার সম্বলিত এই টুল ফ্রি এবং পেইড উভয় ভার্শনে পাওয়া যায়। ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়েই আপনি আনলিমিটেড ডাটা স্টোর করতে পারবেন। অন্যদিকে, এটি অ্যাপ এবং এক্সটেনশন উভয় মাধ্যমেই পাওয়া যায়। 

Password Boss বিগিনার থেকে এক্সপার্ট সকল ধরনের ইউজারের জন্য পাসওয়ার্ড বস সুবিধাজনক। এখানে হাই-সিকিউরিটি এনক্রিপ্টশন AES 256 bit ব্যবহার করা হয়েছে। নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি এবং তা মাল্টি ডিভাইসে ব্যবহার করার জন্য এই অ্যাপের জুড়ি নেই। এটি আপনি অ্যাপ আকারে এবং ব্রাউজার এক্সটেনশন হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। 

Icecream Password Manager এটি অনেক জনপ্রিয় পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ। আইসক্রিম পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপে আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে পাসওয়ার্ড, নোট সহ অন্যান্য ফাইনান্সিয়াল ডাটা সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই অ্যাপ ইউজ করে আপনি আপনার পাসওয়ার্ড গুলোর ব্যাকআপ ড্রপবক্সের ভল্টে সংরক্ষণ করতে পারবেন। তাছাড়া অটোলক ফিচার ব্যবহার করে আপনার ভল্টের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে পারবেন। 

Kaspersky Password Manager আমরা কাস্পারস্কি সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই অবগত। সিকিউরিটি সফটওয়্যার হিসেবে এর যেমন জনপ্রিয়তা আছে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার হিসেবেও এটি অনেক জনপ্রিয়। এর ফ্রি এবং পেইড দুই ধরনের ব্যবহার সুবিধা আছে তবে ফ্রি অ্যাকাউন্টে মাত্র ১৫ টির মত পাসওয়ার্ড রাখা গেলেও পেইড অ্যাকাউন্টে আনলিমিটেড ডাটা রাখা যায়। 

প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লগইন ডাটা ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হয়। আমাদের অসচেতনতায় হ্যাকার আমাদের ডাটা চুরি করে অনলাইনে বিক্রি করে দেয়। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করার ফলে আমরা এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবো।

Leave a Reply