You are currently viewing ফেসবুক অ্যাডস কি? ফেসবুক অ্যাডসের কাজ কি?
ফেসবুক অ্যাডস

ফেসবুক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া হওয়ার পাশাপাশি অনেক বড় অ্যাডস প্ল্যাটফরম। অন্যান্য অ্যাড প্লাটফর্মের থেকে ফেসবুকে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে অল্প সময়ে এবং অল্প বাজেটে সফলতা পাওয়া যায়। আমাদের আজকের লেখায় ফেসবুক অ্যাডস কি, কীভাবে কাজ করে এবং এর সুবিধাগুলো কি সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। 

ফেসবুক অ্যাডস কি?

ফেসবুক একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ২০০৪ সালে তৈরি হওয়া ফেসবুক বর্তমানে সফলতার চরম পর্যায় পৌঁছে গেছে। প্রতি মাসে সারা বিশ্ব থেকে কমপক্ষে ৩ বিলিয়ন মানুষ ফেসবুক ভিজিট করে। বর্তমানে ফেসবুকের সর্বমোট ইউজার সংখ্যা ৩.৩ বিলিয়ন। প্রতিদিন ২.০৬৪ বিলিয়ন মানুষ এই সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন করে। 

এই বিশাল অ্যাক্টিভ ইউজার কমিউনিটি বিজনেস বৃদ্ধির জন্য সব থেকে আদর্শ জায়গা। এ কারণে সম্প্রতি সময়ে ফেসবুক অ্যাডস অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফেসবুক অ্যাড হলো এই প্লাটফর্ম ইউজ করে কোন পণ্য বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপন দেওয়া। 

অর্থাৎ আমাদের নিজস্ব কোন পণ্য বা ক্লায়েন্টের কোন পণ্য সম্ভাব্য কাস্টমারের কাছে পৌঁছানোর জন্য ফেসবুক অ্যাডস প্ল্যাটফরম ব্যবহার করা হয়। এই সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করা অনেক সহজ এবং কার্যকরী। কারণ এখানে আপনি আপনার প্রোফাইল থেকেই পেজ খুলে বিজনেস শুরু করে দিতে পারবেন। 

উক্ত পেজের সাথে পূর্বে থেকে তৈরি থাকা অ্যাড অ্যাকাউন্ট সেটআপ করে নিতে পারবেন। তারপর পছন্দমতো ইমেজ, ভিডিও এবং টেক্সট দিয়ে অ্যাড তৈরি করে তা দিয়ে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবেন। 

মোটকথা, ফেসবুক অ্যাড হচ্ছে অন্যান্য অ্যাড সার্ভিসের মতই। তবে এখানে অ্যাড তৈরি করা এবং প্রচার করা অনেক সহজ। এর বিল্ড-ইন এনালাইসিস ও সঠিক ভিজিটর টার্গেটিং ফিচার থাকার কারণে আপনি বেছে বেছে সঠিক মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। 

ফেসবুক অ্যাডসের কাজ কি?

ফেসবুক অ্যাডস একই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটি গ্রুপের উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ প্রথমে আপনাকে আপনার অ্যাডের জন্য প্রয়োজনীয় রিসার্চ করে নিতে হবে। কারণ অ্যাড রান করার আগে আপনাকে জানতে হবে আপনার কাস্টমার কারা হবে। এই ক্ষেত্রে আপনাকে সম্ভাব্য কাস্টমারের বয়স, রুচি, স্থান, ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। 

যখন উপরে বর্ণিত বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শেষ হবে তখন বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনি তৈরি হবেন। তো আপনার তৈরি করা বিজ্ঞাপন ফেসবুক অ্যাডের মাধ্যমে ৮ টি ফরম্যাট অনুসরণ করে প্রচার করা যাবে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

ভিডিও অ্যাডঃ ভিডিও অ্যাড দেওয়ার জন্য আপনি GIF বা ভিডিও ফাইল ব্যবহার করতে পারবেন। ভিডিও ব্যবহার করার মাধ্যমে একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে অনেক বিস্তারিত তথ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়। তাছাড়া ভিডিও অ্যাড আপনার সাথে কাস্টমারের সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। 

ফেসবুকে মোট ৬ ধরনের ভিডিও অ্যাড ফরম্যাট রয়েছে যা ইউজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম। ভিডিও অ্যাড ফরম্যাট গুলো হলো Short Videos and GIFs, Vertical Videos, Instagram Stories, Video Carousels, Video Collections, In-stream Videos অ্যাডস। 

ইমেজ অ্যাডঃ ভিডিও এডিট করার মাধ্যমে কোন ডেটা যেমন আরও সাবলীলভাবে প্রদর্শন করা যায় ঠিক তেমনি ইমেজ ব্যবহার করেও উচ্চমানের বিজ্ঞাপন তৈরি করা যায়। ফেসবুকে আমরা প্রায়শই ভিডিও অ্যাডের সাথে সাথে স্টিল ইমেজ অ্যাড দেখে থাকি। এগুলো মূলত ফেসবুক অ্যাডসের ইমেজ অ্যাড ফরম্যাট ব্যবহার করে তৈরি করা। 

ভিজিটরের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য ইমেজ অনেক ভালো কাজ করে। ফেসবুকের ইমেজ অ্যাড দেওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই ১০৮০x১০৮০ রেজুলেশন মেইন্টেইন করতে হবে। নতুবা অ্যাড হাই কোয়ালিটি হবে না। এতে উক্ত অ্যাডের পারফর্মেন্স অনেক কমে যাবে এবং উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। 

ক্যারোসেল অ্যাডঃ ক্যারোসেল মূলত একটি চলতি ইমেজ বা ভিডিও স্লাইড। এখানে অনেকগুলো ইমেজ বা ভিডিও থাকে যা নির্দিষ্ট সময় পর পর অ্যানিমেশনের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়। কোন প্রোডাক্ট যদি একটি ভিডিও বা ইমেজের মধ্যে বর্ণনা করা সম্ভব না হয় তবে ক্যারোসেল অ্যাডের মাধ্যমে সহজেই বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্ভব। 

তাছাড়া একটি ক্যারোসেল অ্যাডের ভেতরে ১০ টি ইমেজ বা ভিডিও দেওয়া যায়। আপনি একটি অ্যাডের মধ্যে কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন প্রোডাক্টের মার্কেটিং করতে পারবেন। অন্যদিকে, একই প্রোডাক্টের ভিন্ন ভিন্ন ফিচার আলাদা আলাদা ইমেজ বা ভিডিও এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবেন।  

মেসেঞ্জার অ্যাডঃ মেসেঞ্জার অ্যাড একটি ইন্টারেস্টিং বিজ্ঞাপন ফরম্যাট। মেসেঞ্জারে ডিরেক্ট মেসেজ আসলে যেমন দেখা যায় ঠিক তেমনি মেসেঞ্জার অ্যাড দেখতে। একই রকম হওয়ায় এই অ্যাডে ক্লিক পরার সম্ভাবনা অনেক অনেক বেড়ে যায়।  

স্টোরি অ্যাডঃ সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক স্টোরি অনেক পপুলার হয়ে উঠেছে। ফেসবুক ইউজার তাদের নিউজফিড থেকে স্টোরি বেশি দেখা শুরু করেছে। এই অবস্থায় স্টোরি টার্গেট করে অ্যাড তৈরি করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা জানি স্টোরি ২৪ ঘণ্টা পর নিজে থেকেই ডিলিট হয়ে যায়। 

অন্যদিকে যেহেতু স্টোরি অ্যাড হুবহু আপনার ফ্রেন্ডের স্টোরির মতই দেখায় সেহেতু এখানে এঙ্গেজমেন্ট অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া স্টোরি অ্যাড একই সাথে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইন্সটাগ্রামে প্রচার করা যায়। এতে বিজ্ঞাপন দেওয়া পণ্যের সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পায়। 

স্লাইডশো অ্যাডঃ স্লাইডশো অ্যাড অনেকটা ক্যারোসেল অ্যাডের মতই। তবে স্লাইডশো অ্যাডে শুধু ইমেজ ব্যবহার করা যায়। এখানেও ইমেজ গুলো একের পর এক স্লাইড আকারে পরিবর্তন হতে থাকে। এই অ্যাডের বিশেষত্ব হলো স্লাইডশো অ্যাড সহজে তৈরি করা যায়, খরচ কম হয়, প্রি-মেড টেম্পলেট থাকে, স্লো ইন্টারনেটে বেশি কার্যকরী। 

কালেকশন অ্যাডঃ কালেকশন অ্যাড Instant Storefront, Instant Lookbook, Instant Customer Acquisition এবং Instant Storytelling এই চারটি প্রকারভেদ নিয়ে গঠিত। এখানে এমন ভাবে অ্যাড তৈরি করা হয় যাতে সরাসরি অ্যাড থেকেই কাস্টমার প্রোডাক্ট ক্রয় করতে পারে। 

এই অ্যাড সেকশনের আওতায় আপনি ইমেজ বা ভিডিও দুই ফরম্যাটেই অ্যাড দিতে পারবেন, তবে প্রতিটি অ্যাডের নিচে চারটি ছোট ইমেজ থাকবে যা উক্ত প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। 

প্লেএবল অ্যাডঃ আপনি যদি একজন অ্যাপ ডেভেলপার হন এবং ফেসবুকে আপনার অ্যাপ সম্পর্কে বিজ্ঞাপন দিতে ইচ্ছুক হন তাহলে প্লেএবল অ্যাড আপনার জন্য। এই অ্যাড ফরম্যাটে ভিজিটর আপনার অ্যাপের ফিচার দেখতে পারবে। তারা চাইলে অ্যাপটি কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। গুগল অ্যাডস এর সাথে সাথে ফেসবুক অ্যাডস অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য অনেক ভালো একটি প্লাটফর্ম। 

কেন ফেসবুকে অ্যাডস দিবেন?

ফেসবুকে অ্যাড দেওয়ার জন্য অনেক কারণ আছে তা নিচে দেওয়া হলো। 

  • ফেসবুকে অ্যাড দেওয়ার জন্য আপনি সঠিক ইউজার টার্গেট করতে পারবেন। যা অন্য কোন প্ল্যাটফরমে সম্ভব হয় না। 
  • এখানে জেন্ডার, বয়স, দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে অ্যাড দেওয়া যায়। এতে স্প্যাম মার্কেটিং এর সম্ভাবনা একদম শূন্যের পর্যায় থাকে। 
  • মানুষ বেশিরভাগ সময় ফেসবুকে ভিডিও বা নিউজফিড দেখে কাটায়। এই কারণে এখানে অল্প পরিশ্রম এবং ইনভেস্টে বেশি রেসপন্স পাওয়া যায়। 
  • আপনার বিজনেসের উপর নির্ভর করে অ্যাড ফরম্যাট নির্ধারণ করতে পারবেন। এতে ক্রিয়েটিভ ভাবে বিজ্ঞাপন তৈরি করে তা প্রচার করতে পারবেন। 
  • ফেসবুকে অ্যাড তৈরি এবং ম্যানেজ করার অ্যাক্সেস আপনার নিজের কাছেই থাকে। প্রতিটি অ্যাড কতক্ষণ লাইভ থাকবে এবং কতজন মানুষের কাছে কোন ফরম্যাটে প্রদর্শিত হবে তা আপনি নিজে নির্ধারণ করতে পারবেন। এই কারণে যে কোন সময় অ্যাড বন্ধ করে বা চালু করে বাজেট কমাতে পারবেন। 
  • ফেসবুক অ্যাড থেকে অতি দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। কারণ অ্যাড টার্গেটিং নিখুঁতভাবে করার কারণে অল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়। 
  • অনেক শক্তিশালী এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি অ্যাড ম্যানেজার থাকায় মেইন্টেনেন্স করা সহজ হয়। 
  • A/B টেস্টিং এর মাধ্যমে অ্যাডের পারফর্মেন্স উন্নত করা যায়। 
  • অপ্রয়োজনীয় এবং অপ্রাসঙ্গিক ভিজিটর থেকে অ্যাড হাইড করা যায় এতে স্প্যাম সমস্যা কমে যায়। 

সঠিকভাবে ফেসবুকে ক্যাম্পেইন পরিচালনা কয়া হলে যে কোন বিজনেস অল্প সময়ে কিছু সম্ভাব্য কাস্টমার তৈরি করতে পারবেন। এই লেখায় ফেসবুক অ্যাডস কীভাবে কাজ করে এবং আমাদের কি কাজে লাগে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

Leave a Reply