You are currently viewing গুগল ক্লাউড কি? গুগল ক্লাউড এর সুবিধা অসুবিধা

ক্লাউড টেকনোলজি আমাদের প্রযুক্তির দুনিয়ায় অনেক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান সময়ে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান উচ্চমানের ক্লাউড সার্ভিস প্রদান করে থাকে। এদের মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠান সব থেকে ভালো হবে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি কৌতূহল কাজ করে। আমাদের আজকের লেখায় আমরা গুগল ক্লাউড কি, কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি সেরা সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

গুগল ক্লাউড কি?

১৯৯৮ সালে Google Search ফিচারের মাধ্যমে গুগল তাদের অফিশিয়াল যাত্রা শুরু করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ গুগল ইউজ করে। এটি বর্তমান সময়ের সব থেকে শক্তিশালী ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যা অনেক বড় IT অবকাঠামো নিয়ে গঠিত।

গুগলের বর্তমান সময়ের সব থেকে বেশি প্রচলিত সার্ভিস গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জিমেইল, ইউটিউব, গুগল সার্চ, ফটোস, ম্যাপস, গুগল ড্রাইভ ইত্যাদি। সময়ের সাথে সাথে তারা তাদের সার্ভিসের মান উন্নয়ন সহ নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে চলেছে। 

২০০৮ সালের পর থেকে গুগল কাস্টমার নির্ভর সার্ভিস তৈরি করে যার ধারাবাহিকতায় গুগল ক্লাউডের জন্ম। তারা সেই সময়  App Engine নামক একটি ক্লাউড সার্ভিস ঘোষণা করে যেখানে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এবং হোস্ট করার সুবিধা দেওয়া হয়। 

ধীরে ধীরে এই সার্ভিস জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করলে গুগল তাদের এই সার্ভিসের সাথে আরও অন্যান্য ক্লাউড পরিষেবা যোগ করা শুরু করে। অতঃপর গুগল ক্লাউডে Google Workspace (G Suite), অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম ওএস, API (application programming interfaces), মেশিন লার্নিং ও ম্যাপিং সার্ভিস যোগ করা হয়। 

মোটকথা, গুগল ক্লাউড হলো গুগলের একটি ক্লাউড ভিত্তিক সার্ভিস যা ক্লাউড কম্পিউটিং সহ ডাটা স্টোরেজ, ডাটা অ্যানালাইসিস, মেশিন লার্নিং, ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ইত্যাদি সেবা প্রদান করে। গুগল ক্লাউড গুগলের নিজস্ব ডাটা সেন্টার এবং IT ইনফ্রাস্টাকচার এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

গুগল ক্লাউড এর কাজ কি?

গুগল ক্লাউড একটি বহুমুখী পরিষেবা। নিচে এর প্রধান কিছু কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো। 

ক্লাউড কম্পিউটিংঃ আমরা জানি ক্লাউড কম্পিউটিং এর অর্থ হলো ভার্চুয়াল কম্পিউটার। অর্থাৎ আপনার কম্পিউটার দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কোনো উন্নত কম্পিউটার ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে। গুগল তাদের ক্লাউড সেবার মাধ্যমে এই পরিষেবা প্রদান করে থাকে। 

গুগলের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা ব্যবহার করার জন্য আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর তারা আপনাকে ৩০০ ডলার ক্রেডিট প্রদান করবে যা দিয়ে আপনি ট্রায়াল হিসেবে তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা ব্যবহার করে দেখতে পারবেন। অর্থাৎ ৩০০ ডলার ক্রেডিট খরচ করে ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি এবং ব্যবহার করতে পারবেন। 

তাদের অটোমেটিক সেভিংস সিস্টেমের মাধ্যমে আপনি প্রতি মাসে প্রায় ৫৭% খরচ বাঁচাতে পারবেন। কারণ তারা আপনাকে বাজেট ম্যানেজমেন্টের জন্য নিয়মিত আপডেট দিবে এবং আপনার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে একটি সম্ভাব্য খরচ প্রণালি তৈরি করবে। এতে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সার্ভিস গুলো সম্পর্কে সবসময় অবগত থাকবেন এবং শুধু এগুলো ব্যবহার করার অর্থ জমা করবেন। 

ডাটা স্টোরেজঃ আমরা সকলেই গুগল ড্রাইভ সম্পর্কে অবগত আছি। এটি গুগলের একটি ক্লাউড স্টোরেজ সিস্টেম। প্রতিটি গুগল অ্যাকাউন্টের সাথে ১৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ ফ্রি পাওয়া যায়। আপনি চাইলে এই স্পেস আপনার চাহিদামতো বাড়িয়ে নিতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে মাসিক ভিত্তিতে গুগলকে অর্থ প্রদান করতে হবে। 

প্রতি ১০০ জিবি স্টোরেজ ব্যবহার করতে আপনাকে মাসিক ১৫০ টাকা দিতে হবে। এভাবে ২০০ জিবি এর জন্য ২৫০ টাকা এবং ২ টেরাবাইট গুগল ড্রাইভের জন্য প্রতি মাসে ৮০০ টাকা খরচ করতে হবে। গুগল তাদের ক্লাউড স্টোরেজ প্রোগ্রাম গুগল ওয়ান পরিষেবার মাধ্যমে পরিচালনা করে। আপনি গুগল ওয়ান সার্ভিস ব্যবহার করার জন্য আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করলেই আপনার বর্তমান ড্রাইভ স্টোরেজ সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এছাড়া আপনার ফ্রি প্ল্যান আপগ্রেড করে আপনার চাহিদা মত স্টোরেজ বাড়িয়ে নিতে পারবেন। 

ক্লাউড হোস্টিংঃ ক্লাউড হোস্টিং বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় হোস্টিং সার্ভিস। ক্লাউড হোস্টিং এর সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে এখানে যেমন ১০০% আপটাইম পাওয়া যায় তেমনি উন্নত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সমন্বয়ে তৈরি সুরক্ষিত সার্ভার পাওয়া যায়। 

বর্তমানে প্রায় সব ধরনের ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ সার্ভিস তাদের ডাটা স্টোর করার জন্য ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে। তাছাড়া ক্লাউড সার্ভিসগুলো অন্যান্য সার্ভার সিস্টেম থেকে ফাস্ট, সিকিউর এবং রিলায়েবল হয়। এখানে নিশ্চিন্তে যে কোনো অনলাইন সার্ভিস হোস্ট করে ব্যবহার করা যায়।

সর্বোচ্চ পরিমাণ সিকিউর হোস্টিং সার্ভিস প্রদান করার জন্য গুগল ক্লাউড হোস্টিং সার্ভিস পরিষেবা চালু করেছে। শুরুতে শুধু টেস্ট করার জন্য গুগল আপনাকে ৩০০ ডলার ক্রেডিট প্রদান করবে যা দিয়ে আপনি তাদের ২৫+ সার্ভিস টেস্ট করে দেখতে পারবেন, যাদের মধ্যে ক্লাউড হোস্টিং একটি। 

অ্যাপ হোস্টিংঃ গুগল ক্লাউড অ্যাপ হোস্টিং এর জন্য একটি আদর্শ জায়গা। এখানে আপনি গো, পাইথন, জাভা, রুবি, .NET, Node.js ইত্যাদি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তৈরি যে কোন অ্যাপ হোস্ট এবং রান করতে পারবেন। 

অ্যাপ তৈরি ও রান করার জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজগুলো কনটেইনারে ডিপ্লয় করতে পারবেন। এগুলো সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার জন প্রয়োজনীয় টুল এবং ফিচার যেমন ক্লাউড কোড, ক্লাউড বিল্ড,  Artifact Registry, ডকার ইত্যাদি পরিষেবা পাওয়া যায়। আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা ৩০০ ডলার ক্রেডিট খরচ করে আপনার তৈরি অ্যাপ গুগল ক্লাউডে হোস্ট করে রাখতে পারবেন।  

APIs ম্যানেজমেন্টঃ এপিআই হলো দুইটি অ্যাপ এর মধ্যকার যোগাযোগ মাধ্যম। অর্থাৎ এই টেকনোলজি ব্যবহার করে একটি অ্যাপ অন্য আরেকটি অ্যাপের সাথে ডাটা শেয়ার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। 

গুগল এই এপিআই ম্যানেজমেন্ট করার জন্য অতুলনীয় একটি সার্ভিস যেখানে সুরক্ষিতভাবে এপিআই ম্যানেজ করা যায়। গুগল ক্লাউডের Apigee API Management টুলের মাধ্যমে আপনার তৈরি এপিআই হোস্ট করা সহ বিতরণ করতে পারবেন। 

অটোমেটিক ব্যাকআপঃ আমরা জানি বর্তমান সময়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠান ক্লাউড সিস্টেম ব্যবহার করে তাদের সার্ভারের ব্যাকআপ নিয়ে রাখে। কারণ ক্লাউডে ব্যাকআপ থাকলে যে কোনো সময় সার্ভারে সমস্যা হলে তা রিস্টোর করা যায়। অন্যদিকে এখানে আনলিমিটেড স্টোরেজ আছে এবং অনেক টপ ক্লাস সিকিউরিটি আছে। 

গুগল তাদের গুগল ক্লাউড প্লাটফর্ম বা GCP এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি অটো ব্যাকআপ পরিষেবা প্রদান করে আসছে। তাদের উন্নত নেটওয়ার্ক এবং হার্ডওয়্যার অবকাঠামো থাকায় ডাটা সেন্টার গুলো এদের সার্ভিস ব্যবহার করে। 

গুগল অ্যাপ পরিষেবাঃ গুগল ম্যাপস, গুগল ফটোস, জিমেইল, গুগল নিউজ ইত্যাদি পরিষেবাগুলো হলো গুগলের প্রধান প্রধান পরিষেবার মধ্যে অন্যতম। এখন আপনি একটি গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে এই সব গুলো সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবেন। 

গুগল তাদের ইকোসিস্টেম এই ভাবেই তৈরি করেছে। তারা তাদের এই সিস্টেম তৈরি করার জন্য ক্লাউড সার্ভিসের সাহায্য নিয়েছে। অর্থাৎ এখানে যে যে অ্যাপের কথা বলা হয়েছে সেগুলো গুগল ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করে পরিচালিত হয়।

গুগল ক্লাউড এর সুবিধা অসুবিধা

গুগল ক্লাউড এর সুবিধা অসুবিধা

নিচে গুগল ক্লাউডের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা বর্ণনা করা হলো। 

সুবিধা 

  • গুগল ক্লাউড তাদের ডাটাসেন্টারে ডাটা স্টোর করার জন্য অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন করেছে। অর্থাৎ আপনি আপনার ডাটা এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার যে কোন অঞ্চলে রাখতে পারবেন। এখানে আপনি আপনার ডাটা কোথায় থাকবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। 
  • ক্লাউড সার্ভিস কীভাবে ব্যবহার করবেন তা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ডকুমেন্টেশন পাবেন। এতে ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহারের সময় কোনো সমস্যায় পরলে দ্রুত সমাধান করতে পারবেন। 
  • ডাটা স্টোর করার জন্য ৩ টি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী ঘন ঘন ইউজ করতে পারবেন। এছাড়া লম্বা সময়ের জন্য তাদের ক্লাউড চালু করতে চাইলে তাদের Coldline পলিসির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হবে। 
  • প্রথম বছরের জন্য তারা ৩০০ ডলার ক্রেডিট বিনামূল্যে প্রদান করে। এরপর থেকে সারাজীবন ব্যবহারের জন্য ৫ গিগাবাইট স্টোরেজ একদম ফ্রি দেওয়া হবে। 

অসুবিধা

  • গুগল ক্লাউড থেকে ডাটা ডাউনলোড করাও অনেক ব্যয়বহুল। এখানে প্রতি গিগাবাইট ডাটা ডাউনলোড করার জন্য ০.১২ ডলার খরচ করতে হয়। 
  • এদের ওয়েব ইন্টারফেস অনেক অগোছালো। এখানে কাজ করতে গেলে এই অগছানো অবস্থা দেখে বিরক্ত হতে পারেন। 
  • Microsoft Azure এবং Backblaze B2 এর তুলনায় Google Cloud অনেক ব্যয়বহুল। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

গুগল ক্লাউড মার্কেটে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সুনামের সাথে তাদের সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। ক্লাউড কম্পিউটিং থেকে শুরু করে ডাটা স্টোরেজ এবং মেশিন লার্নিং প্রক্রিয়া সহ সকল ক্ষেত্রে গুগল ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহৃত হচ্ছে।

Leave a Reply