You are currently viewing আপওয়ার্ক কি? কিভাবে আপওয়ার্কে ক্যারিয়ার গড়বেন?
আপওয়ার্ক কি

অনলাইনে ইনকাম করার স্বপ্ন আমরা সকলেই দেখে থাকি। তবে বেশিরভাগের কপালেই ফ্রিল্যান্সিং শেখা হয় না। তবে যারা ফ্রিল্যান্সিং শিখে ফেলেছে তাদের কাছে Upwork একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। প্রফেশনাল লেভেলের কাজ করার জন্য আপওয়ার্কের বিকল্প খুব কম আছে। আমাদের আজকের লেখায় আমরা আপওয়ার্ক কি, এটি কীভাবে কাজ করে এবং এখানে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আমাদের কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আপওয়ার্ক কি?

আপওয়ার্ক একটি অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠাকালে আপওয়ার্কের নাম ছিল ওডেস্ক। ২০০৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাম্পবেলে তৎকালীন ওডেস্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরু থেকেই এই কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে থাকা মুক্ত পেশাজীবীদের দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করিয়ে নেওয়া। ২০১৫ সালে চূড়ান্তভাবে ওডেস্ক নাম পরিবর্তন করে আপওয়ার্ক করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হিসেবে ২০২২ সালে আপওয়ার্ক টাইমস ম্যাগাজিনের সেরা ১০০ কোম্পানির তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে বিশ্বের প্রায় ১৮০ টি দেশের ১.৮ মিলিয়ন রেজিস্টার্ড ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। এখানে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় এমন সব ক্যাটাগরি সহ প্রায় ৪ লাখের অধিক প্রোজেক্ট আছে। 

আপওয়ার্ক তাদের প্রফেশনাল নিয়ম এবং গোছানো ম্যানেজমেন্টের জন্য বিখ্যাত। যতগুলো ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস আছে তাদের মধ্যে র‍্যাঙ্কিং এ সবার প্রথমে আছে এই কোম্পানি। এখানে ফিক্সড এবং আওয়ারলি দুই ধরনের প্রোজেক্ট পাওয়া যায়।

আপওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে?

আপওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে?

যে যে সিস্টেম অনুযায়ী আপওয়ার্ক কাজ করে তা নিচে দেওয়া হলো। 

অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশনঃ আমরা আগেই জেনেছি এটি একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এখানে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য সব ধরনের প্রোজেক্ট পাওয়া যায়। তো আপওয়ার্ক তাদের কার্যক্রম তথা বায়ার এবং সেলারের সংযোগ ঘটানোর জন্য রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম করে রেখেছে।

অর্থাৎ আপওয়ার্ক এ কাজ করতে চাইলে বা জব পোস্ট করতে চাইলে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তারা কাজ খোঁজা, কাজ করা, পেমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া ইউজার প্রোফাইলের উপর নির্ভর করে সকল ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা করে।

জব পোস্টিং সিস্টেমঃ এখানে প্রধানত তিন সিস্টেমে জব পোস্ট করার নিয়ম আছে। শুরুতে শুধু ফিক্সড এবং ঘণ্টা ভিত্তিক কাজের ধরন থাকলেও বর্তমানে গিগ হিসেবেও কাজ করা যায়। ফিক্সড কাজ গুলোয় একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে এবং কাজের বিবরণ দেওয়া থাকে। যে ফ্রিল্যান্সার সেই অফার গ্রহণ করে সে কাজ শেষ করে বায়ারকে দেখায়। বায়ার যদি তার মন মতো কাজ পায় তাহলে ডেলিভারি গ্রহণ করে। তারপর আপওয়ার্ক সেই জবের জন্য বায়ারের কাছে পেমেন্ট নিয়ে তা উক্ত ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্টে জমা করে। 

অন্যদিকে, ঘণ্টা ভিত্তিক কাজে বায়ার যত ঘণ্টা কাজ করিয়ে নিবে ঠিক তত ঘণ্টার পেমেন্ট করবে। অর্থাৎ আপনি যত সময় কাজ করবেন তা ঘণ্টায় কনভার্ট করে আপনার ঘণ্টা ভিত্তিক রেটে পেমেন্ট করা হবে।

ফাইবারে আমরা যাকে গিগ হিসেবে চিনি ঠিক একই জিনিস আপওয়ার্ক এ Project Catalog নামে পরিচিত। এখানে আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয়ে তথ্য দিয়ে একটি ক্যাটালগ তৈরি করতে হবে। আপওয়ার্ক আপনার এই ক্যাটালগ তাদের ওয়েবসাইটে থাকা বায়ারকে দেখাবে। বায়ার আপনার সার্ভিস নিতে চাইলে সেখান থেকে অর্ডার করতে পারবে।

মোটকথা আপওয়ার্ক একটি অনেক ফ্লেক্সিবল মার্কেটপ্লেস। আপনি যদি সত্যিকার অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন তবে এখান থেকে নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করে নিতে পারবেন।

কানেক্টস ম্যানেজমেন্টঃ আপওয়ার্ক এ কোন কাজে বিড করার জন্য কানেক্টস প্রয়োজন পরে। মূলত একেক ধরনের জবে একেক পরিমাণ Connects খরচ হয়। প্রতি ৩০ দিন পর পর আপওয়ার্ক একজন বেসিক প্ল্যানের ফ্রিল্যান্সারকে ১০ কানেক্টস এবং একজন প্লাস প্ল্যানের ইউজারকে ৭০ কানেক্টস ফ্রি দেয়।

এছাড়া জবে অ্যাপ্লাই করতে করতে যদি কানেক্টস ফুরিয়ে যায় তবে “Add More Connects” অপশন থেকে প্রয়োজনীয় কানেক্টস ক্রয় করা যায়। কানেক্টস ক্রয় করা ছাড়াও নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, রাইজিং স্টার ব্যাজ, ইন্টারভিউ দেওয়া এবং স্কিল টেস্ট দিয়ে সার্টিফিকেট পাওয়ার মাধ্যমে কানেক্টস বাড়ানো যায়। 

সেলার এবং বায়ার নিয়ন্ত্রণঃ একজন সেলার এবং একজন বায়ারের মধ্যকার সম্পর্ক এবং যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ব্রিজ হিসেবে কাজ করে আপওয়ার্ক। অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে জব কমপ্লিট করে পেমেন্ট করা পর্যন্ত ধাপগুলো কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়া করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করে রাখা হয় যা আপওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যদিকে কোন ধরনের কাজ করা যাবে বা কোন সেলার এবং বায়ারের সাথে কাজ করা যাবে কি যাবে না তা নির্ধারণ করতে এই মার্কেটপ্লেস তার ইউজারদের সাহায্য করে।  

পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ন্ত্রণঃ আমরা ফ্রিল্যান্সিং করি অর্থ উপার্জন করার জন্য। এখন কাজ করে যদি সঠিক সময় সঠিকভাবে পেমেন্ট না পাই তবে কাজ করার মানসিকতা যেমন নষ্ট হয় তেমনি সময় নষ্ট হয়। এই ধরনের সমস্যা যেন আপওয়ার্ক এ না হয় সে জন্য তারা যত্নসহকারে প্রতিটি ট্রানজেকশন মেইন্টেইন করে। 

এতে পেমেন্ট দেওয়া এবং পেমেন্ট পাওয়া নিয়ে বায়ার সেলারদের মধ্যে কোন ঝামেলা হয় না। অন্যদিকে আপওয়ার্কে Get Paid ফিচার ইউজ করে আপনি মার্কেটপ্লেসের বাইরে থেকেও পেমেন্ট নিতে পারবেন। 

কিভাবে আপওয়ার্কে ক্যারিয়ার গড়বেন?

কিভাবে আপওয়ার্কে ক্যারিয়ার গড়বেন?

আপওয়ার্কে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন হবে অনলাইনের কাজে দক্ষ হওয়া। আমরা পূর্বে জেনেছি এটি একটি প্রফেশনাল প্লাটফর্ম যেখানে “শিখিয়ে দিলে পারবো” এমন টাইপের কেউ টিকে থাকতে পারবে না। তো আপওয়ার্কে কীভাবে ক্যারিয়ার গড়া যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। 

অ্যাকাউন্ট তৈরিঃ প্রথমে আপনার অরিজিনাল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্টে অবশ্যই আপনার সত্যিকারের তথ্য ব্যবহার করবেন। কারণ এখানে সকল ডাটা ভেরিফাই করে তারপর অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করা হয়। 

ইন্টারভিউঃ অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর ই-মেইল ভেরিফিকেশন করতে হবে। তারপর আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ করার জন্য ভিডিও ইন্টারভিউ দিতে হবে। সেখানে আপনার সম্পর্কে ডাটা নিয়ে তারপর অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করে দিবে। 

কমপ্লিট প্রোফাইলঃ এবার আপনার প্রোফাইলকে সুন্দর করে সাজিয়ে প্রফেশনাল লুক দিতে হবে। কারণ প্রফেশনাল ছবি এবং প্রোফাইল দেখলে বায়ার কাজ দিতে উদ্বুদ্ধ হবে।  

স্কিল টেস্টঃ স্কিল টেস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কেটপ্লেস এবং বায়ার আপনার স্কিল টেস্ট রিপোর্ট দেখে আপনাকে বিচার করবে। আপনি আপনার ক্যাটাগরির কাজের উপর স্কিল টেস্ট দিয়ে তা প্রোফাইলে সাজিয়ে রাখতে পারবেন যা আপনাকে অভিজ্ঞ প্রমাণ করতে কাজে লাগবে।

বিড করাঃ আপনি যে যে বিষয়ের উপরে অভিজ্ঞ সে সে বিষয়ের উপরে জব খুঁজে বের করতে হবে। সেখান থেকে যেখানে কম প্রপোজাল পরেছে সেখানে কানেক্টস খরচ করে বিড করতে হবে। বিড করার সময় সুন্দর করে একটি কভার লেটার পাঠাতে হবে যেখানে কাজটি কীভাবে করবেন তার একটি বর্ণনা থাকবে। এতে বায়ার অনেক গুলো অ্যাপ্লিকেশন থেকে আপনাকে খুঁজে বের করতে পারবে। সিলেক্টেড হওয়ার পর বায়ার আপনার Interview নিবে যেখানে কাজ সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।   

কাজ জমা দেওয়াঃ ইন্টারভিউ দেওয়ার পর কাজ কমপ্লিট করে তা বায়ার রিভিউয়ের জন্য সাবমিট করতে হবে। বায়ার আপনার কাজ পছন্দ করলে তা গ্রহণ করবে এবং রিভিউ সহ পেমেন্ট করবে। 

পেমেন্ট নেওয়াঃ পেমেন্ট হয়ে গেলে আমি পেপাল, ব্যাংক বা পেওনিয়ার এর মাধ্যমে সে পেমেন্ট উইথড্র করতে পারবেন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি

এই পুরো জার্নি আপনি সফলভাবে শেষ করতে পারলে নিজেকে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন। তাছাড়া আপওয়ার্কে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনাকে অনেক পরিশ্রমী হতে হবে, ধৈর্য ধরে কাজ শিখতে হবে এবং মনোযোগের সহিত কাজ করতে হবে।

Leave a Reply