You are currently viewing ওয়েব মেইল কি? ওয়েব মেইল কিভাবে তৈরি করে?
ওয়েব মেইল কি

ইলেকট্রনিক মেইল যোগাযোগ ব্যবস্থার এক অভূতপূর্ণ উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের যে কোন মানুষকে ই-মেইল অ্যাড্রেস এর মাধ্যমে মুহূর্তেই লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠানো যায়। যেখানে মানুষের স্বশরীরে পৌঁছাতে মাস কে মাস সময় খরচ হয়ে যাবে। অথচ একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়ে আমরা সেকেন্ডের মধ্যেই তথ্য আদান প্রদান করতে পারছি।

বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির ওয়েব মেইল সার্ভিস আমাদের যেমন পার্সোনাল বিজনেস ই-মেইল তৈরি করতে সাহায্য করে তেমনি যে কোন জায়গা থেকে তা অ্যাক্সেস করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের আজকের লেখায় ওয়েব মেইল কি, কীভাবে তৈরি করতে হয় এবং ইমেইল ও ওয়েব মেইল এর মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো।

ওয়েব মেইল কি?

ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে যে মেইল সার্ভিস পরিচালিত হয় তাকে ওয়েব মেইল বলে। অর্থাৎ যেখানে গতানুগতিক ই-মেইল ব্যবহার করার জন্য ডেক্সটপ ক্লাইন্ট প্রয়োজন, সেখানে ওয়েব মেইল ইউজ করা হয় ইন্টারনেট ব্রাউজার দিয়ে।

ওয়েব মেইল বুঝতে হলে আমাদের ই-মেইল কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। আমরা জানি ইন্টারনেটে যা আছে তার সব কিছুই ডাটা আকারে ওয়েব সার্ভারে থাকে। এই সার্ভার গুলোর প্রধান কাজ হলো ডাটা স্টোর করে রাখা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব সার্ভার থেকে ডাটা ডাউনলোড ও আপলোড করার প্রক্রিয়া হলো ওয়েব ব্রাউজিং।

ই-মেইল হলো এরকম একটি ডাটা আদান প্রদানের প্রক্রিয়া। আমরা যখন ই-মেইল লিখি তখন তা ডাটা আকারে অন্য জনের কাছে পাঠাতে হয়। ইন্টারনেট ডাটা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আদান প্রদান করতে পারে ঠিকই কিন্তু স্টোর করতে পারে না। এই কারণেই সার্ভার প্রথার প্রচলন হয়েছে। 

যাইহোক, ওয়েব মেইল বোঝার জন্য জিমেইল কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে ধারণা থাকলেই হবে। জিমেইল গুগলের একটি মেইল সার্ভিস। সচরাচর আমরা জিমেইল ইউজ করার জন্য ওয়েব ব্রাউজার ইউজ করি। তো গুগল তাদের মেইল সার্ভিস পরিচালনা করার জন্য প্রথমে মেইল সার্ভার তৈরি করেছে। সেখানে মেইল সেন্ড ও রিসিভ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটোকল এবং সফটওয়্যার ইন্সটল করেছে। 

কিন্তু তারা শুধু নেটিভ অ্যাপ এর উপর নির্ভর না করে জিমেইল এর একটি ওয়েব ভার্সন তৈরি করেছে। আমরা ব্রাউজারে gmail.com লিখলে যে ওয়েবসাইট পাই তাই গুগলের ওয়েব মেইল সার্ভিস। এই মাধ্যমে যত মেইল আদান প্রদান হয় তা গুগলের মেইল সার্ভারে জমা থাকে।

গতানুগতিক ই-মেইল শুধু একটি মাত্র কম্পিউটার থেকে দেখা যায় অন্যদিকে ওয়েব মেইল যে কোন জায়গা থেকে ইন্টারনেট কানেকশন থাকা ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে অ্যাক্সেস করা যায়।

ওয়েব মেইল কিভাবে তৈরি করে?

ওয়েব মেইল কিভাবে তৈরি করে?

ওয়েব মেইল দুই ভাবে তৈরি করা যায়, নিচে ওয়েব মেইল তৈরি করার প্রক্রিয়া বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

ওয়েব মেইল সার্ভিস

  • ওয়েব মেইল তৈরি করার সব থেকে সহজ মাধ্যম হলো কোন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সার্ভিস ব্যবহার করা। বিশ্বে সব থেকে বেশি ওয়েব মেইল সার্ভিস হিসেবে পরিচিত ও ব্যবহৃত মাধ্যম হলো Gmail অ্যাকাউন্ট। গুগলের তৈরি এই সার্ভিস ইউজ করা অনেক সহজ এবং সম্পূর্ণ ফ্রি। 
  • গুগল তাদের জিমেইল অ্যাকাউন্টের জন্য তাদের সার্ভারে ১৫ জিবি স্পেস দেয়। তাছাড়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা অনেক সহজ একটি বিষয়। এখানে- 
  • প্রথমে www.gmail.com এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। 
  • তারপর Create an Account অপশনে ক্লিক করলে একটি রেজিস্ট্রেশন ফর্ম ওপেন হবে। 
  • সেখানে নাম, জন্মসাল, দিয়ে পরবর্তী পেজে যেতে হবে। 
  • নেক্সট পেজে আপনাকে আপনার পছন্দের মেইল অ্যাড্রেস দিতে হবে। অর্থাৎ [email protected] এর পূর্বে আপনার পছন্দের নামটি বসবে। 
  • তারপর আপনার অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করার জন্য পাসওয়ার্ড দিতে হবে।
  • সব হয়ে গেলে আপনার দেওয়া মোবাইল নাম্বারে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে। এই কোড উক্ত পেজে বসিয়ে Continue করলে আপনাকে আপনার তৈরি করা ওয়েব মেইল অ্যাকাউন্ট পেজে নিয়ে যাবে। 
  • এখন আপনি বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে জিমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার মেইল সার্ভিসে অ্যাক্সেস করতে পারবেন। 

পার্সোনাল মেইল সার্ভার

  • আপনার যদি একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং থাকে তবে সহজেই পার্সোনাল মেইল সার্ভার বা বিজনেস মেইল তৈরি করতে পারবেন। 
  • শুরুতে আপনার হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেলে প্রবেশ করুন। 
  • সেখানে মেইল সার্ভার লিখে সার্চ করলে মেইল সার্ভার তৈরি করার অপশন পাবেন। 
  • তো সেখানে যে যে অপশন পাবেন তার মধ্য থেকে Create a mail server অপশনে ক্লিক করতে হবে। 
  • পরবর্তী পেজে আপনার ই-মেইল নেম কি হবে তা দিয়ে দিতে হবে। 
  • বিজনেস ই-মেইল সাধারণত আপনার ডোমেইন নেমের এক্সটেনশন সহ হয়। 
  • অর্থাৎ আপনার ডোমেইন নেম যদি abcd.com হয় তাহলে আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেস হবে আপনার দেওয়া নাম যেমন [email protected] এইরকম। 
  • এখানে আপনার হোস্টিং প্রোভাইডার যতটুকু জায়গা বরাদ্দ দিবে আপনি ঠিক তত টুকু জায়গা ব্যবহার করতে পারবেন। 
  • তাছাড়া সেখানে কত গুলো মেইল সার্ভার তৈরি করতে পারবেন তার একটা লিমিটেশন থাকে।

ই-মেইল এবং ওয়েব মেইলের মধ্যে পার্থক্য কি?

ই-মেইল এবং ওয়েব মেইলের মধ্যে পার্থক্য কি?

বুৎপত্তিগত দিক থেকে ওয়েব মেইল ই-মেইল এর একটি অংশ। তবে কার্যকারিতা ও ব্যবহার বিধির উপর ভিত্তি করে তাদের মধ্যকার কিছু পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো। 

  • গতানুগতিক ই-মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল পরিচালনা করার জন্য ডেডিকেটেড সফটওয়্যার লাগে। ওয়েব মেইল সরাসরি সফটওয়্যার ব্যবহার না করে ওয়েব ব্রাউজার দিয়ে অ্যাক্সেস করা যায়। 
  • ই-মেইল পরিচালনা করতে সফটওয়্যারে সরাসরি অ্যাক্সেস প্রয়োজন পরে। ওয়েব মেইল যে কোনো ব্রাউজার দিয়েই অ্যাক্সেস করা যায়। 
  • ওয়েব মেইল সার্ভিস প্রোভাইডারের অনলাইন সার্ভারে হোস্ট করা থাকে। ই-মেইল ক্লাইন্ট অ্যাপ ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে হোস্ট করা থাকে। 
  • ই-মেইল রিমোটলি ব্যবহার করা যায় না। ওয়েব মেইল যে কোনো ডিভাইস দিয়ে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে রিমোটলি অ্যাক্সেস করা যায়। 
  • ই-মেইল ক্লাইন্ট ইউজ করার জন্য ইন্টারনেট প্রয়োজন পরে না পক্ষান্তরে ওয়েব মেইল ইন্টারনেট এর উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
  • ওয়েব মেইল ফ্রি হলেও এতে অ্যাড থাকে যা ই-মেইল ক্লাইন্ট সফটওয়্যারে থাকে না। 
  • ই-মেইল ক্লাইন্ট ব্যবহারকারীর নিজ উদ্যোগে মেইলের ব্যাকআপ নিতে হয় অন্যদিকে ওয়েব মেইল সার্ভিস প্রোভাইডার অটোমেটিক ব্যাকআপ নিয়ে তা ক্লাউড সার্ভারে আপলোড করে রাখে। এতে মেইল হারানোর ভয় থাকে না। 
  • ওয়েব মেইল সার্ভিস ই-মেইল ক্লাইন্ট সফটওয়্যার সার্ভিসের থেকে বেশি সুরক্ষিত। কারণ ওয়েব মেইলে অটোমেটিক ভাইরাস স্ক্যানার থাকে। ই-মেইল ক্লাইন্ট সফটওয়্যার সরাসরি ডেক্সটপ অ্যাক্সেস পায় এবং সেখানে ম্যানুয়ালি ভাইরাস স্ক্যান করতে হয়। এতে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 
  • ইন্টারনেট নির্ভর মেইল সার্ভিস ক্লাউড সার্ভারে হোস্ট করা থাকে। এতে আপনার ডিভাইসের স্পেস এবং প্রসেসর পাওয়ার খরচ হয় না। অন্যদিকে, ই-মেইল ক্লাইন্ট সরাসরি কম্পিউটারে ইন্সটল থাকার কারণে কম্পিউটারের নিজস্ব স্পেস এবং প্রোসেসিং পাওয়ার খরচ হয়। 
  • ই-মেইল ক্লাইন্ট আপডেট হতে অনেক সময় লাগে অন্যদিকে ওয়েব মেইল অনেক দ্রুত আপডেট হয়। 
  • একসাথে অনেকগুলো মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার জন্য নেটিভ ই-মেইল সফটওয়্যার এর কোন বিকল্প নেই। তবে আপনি যদি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট একই সাথে ম্যানেজ না করে আলাদা আলাদাভাবে ম্যানেজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তবে ওয়েব মেইল আপনার জন্য সেরা মাধ্যম হবে। 
  • জনপ্রিয় ওয়েব মেইল সার্ভিস গুলো হলো Gmail, Yahoo Mail, AOL, GMX Mail, Mailfence ইত্যাদি। অন্যদিকে জনপ্রিয় ই-মেইল ক্লাইন্ট গুলো হলো Microsoft Outlook, Mozilla Thunderbird, IBM Lotus Notes ইত্যাদি।   

মেইল পরিচালনার জগতে ওয়েব মেইল এক অন্যরকম যুগের সূচনা করেছে। বর্তমানে কোন ই-মেইল ক্লাইন্ট ব্যবহার করার থেকে ওয়েব মেইল সার্ভিস ব্যবহার করা অনেক সহজ ও গতিশীল হয়েছে।

Leave a Reply