You are currently viewing থ্রিডি প্রিন্টিং কি? কত প্রকার এর সুবিধা এবং অসুবিধা
থ্রিডি প্রিন্টিং কি

পণ্য প্রস্তুতকারক ইন্ডাস্ট্রিতে থ্রিডি প্রিন্টিং অনেক বড় ভূমিকা রেখে আসছে। এই পদ্ধতিতে যেমন সহজে কোন পণ্যের প্রোটোটাইপ তৈরি করা যায় তেমনি খরচ অনেক কম পরে। বর্তমানে স্বাস্থ্য, পরিবহণ, স্থাপত্য, রেপ্লিকা ইত্যাদি খাতে থ্রিডি প্রিন্টিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের জীবন-যাপন আরও সহজ ও সাবলীল করে তোলা হয়েছে। আমাদের আজকের লেখায় থ্রিডি প্রিন্টিং কি? কত প্রকার এর সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

থ্রিডি প্রিন্টিং কি?

থ্রিডি প্রিন্টিং হচ্ছে একটি 4IR প্রযুক্তি। এটি তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের একটি আবিষ্কার। থ্রিডি প্রিন্টিংকে এডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। যাইহোক, 3D প্রিন্টিং হচ্ছে একটি ত্রিমাত্রিক বস্তু তৈরি করার প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে কঠিন প্ল্যাস্টিক কে গলিয়ে তা দিয়ে কম্পিউটারে মাধ্যমে তৈরি করা গ্রাফিক্যাল বস্তুতে রূপান্তরিত করা হয়। 

অর্থাৎ আপনি যে কোন স্ট্রাকচার, মডেল, প্রোটোটাইপ ইত্যাদি তৈরি করার জন্য এই প্রিন্টিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন। সাধারণত থ্রিডি প্রিন্টিং পদ্ধতিতে কাঁচামাল হিসেবে প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করা হয়। প্রথমে শক্ত প্ল্যাস্টিক গলিয়ে তা দিয়ে কম্পিউটার কমান্ডের মাধ্যমে সহজ, কঠিন ও জটিল সকল ধরনের ডিজাইন তৈরি করা যায়। 

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে এই ইন্ডাস্ট্রি যে পরিমাণ এগিয়ে যাচ্ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে থ্রিডি প্রিন্টিং অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এখন যদিও ছোট ছোট ডিজাইন ও স্ট্রাকচার তৈরি করার জন্য এই পদ্ধতি ইউজ করা হচ্ছে। তবে সামনের দিনগুলোয় বিল্ডিং তৈরি করার বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করা সম্ভব হবে। 

থ্রিডি প্রিন্টিং কি

3D Printing কত প্রকার?

নিচে থ্রিডি প্রিন্টিং কত প্রকার ও কি কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতা হলো।

থার্মোপ্লাস্টিক প্রিন্ট

আমরা জানি যে থ্রিডি প্রিন্টিং এর প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে প্ল্যাস্টিক। অর্থাৎ এই পদ্ধতি ইউজ করে যে ধরনের বস্তু তৈরি করা হয় তা প্ল্যাস্টিকের হয়। তো আমরা থ্রিডি প্রিন্টিং বলতে যা বুঝি তা হচ্ছে থার্মোপ্লাস্টিক এর ফিলামেন্ট দিয়ে তৈরি করা পদ্ধতি। অর্থাৎ এই সিস্টেমে প্রথমে প্রসেস করা থার্মোপ্লাস্টিক কে উচ্চ মাত্রার তাপ প্রয়োগ করার মাধ্যমে তরল ফিলামেন্টে রুপান্তর করা হয়। 

পরে এই রুপান্তর করা ফিলামেন্ট স্টেইনলেস স্টিল অথবা ব্রোঞ্জের তৈরি নজেলের মাধ্যমে ডিজাইন তৈরি করে। এখানে স্টেইনলেস স্টিল ও ব্রোঞ্জ ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে যখন থার্মোপ্লাস্টিক উচ্চমাত্রায় গলানো হয় তখন তা অনেক গরম থাকে। তাই এই বেশি পরিমাণ তাপ যাতে সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করা যায় এবং কোন ধরনের সমস্যা ছাড়া প্ল্যাস্টিক বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে তাই এই ধরনের উচ্চ তাপবাহি উপাদান ব্ব্যহার করা হয়। 

প্রিন্টিং এ বৈচিত্র্য আনতে আপনি বিভিন্ন রঙের সাথে সাথে বিভিন্ন প্রকারের প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করতে পারবেন। এতে যেমন আপনার তৈরিকৃত প্রোডাক্ট শক্তিশালী হবে তেমনি আপনার পছন্দমতো রঙের হবে। 

রেজিন প্রিন্টিং

এটি একটি অপ্রচলিত থ্রিডি প্রিন্টিং পদ্ধতি। তবে এতে অনেক কম পরিমাণ সময় লাগে। সাধারণত গতানুগতিক থ্রিডি প্রিন্টিং থেকে এর তৈরি প্রক্রিয়া একটু ভিন্ন। গতানুগতিন প্রিন্টিং ধারায় যেখানে প্ল্যাস্টিক গলিয়ে তা নজেলের সাহায্যে ডিজাইন করা হয়, এখানে অতি বেগুনি রশ্মির লেজার ব্যবহার করা হয়। 

অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে থার্মোপ্লাস্টিক এর বদলে তরল র প্ল্যাস্টিক ব্যবহার করা হয়। প্রথমে তরল প্ল্যাস্টিককে একটি চৌবাচ্চার মধ্যে রাখা হয় এবং এর উপর কম্পিউটার দ্বারা তৈরি ডিজাইন লেজার রশ্মির মাধ্যমে পরিচালিত করা হয়। 

তরল প্ল্যাস্টিকের উপর দিয়ে যে যে অংশে লেজার রশ্মি প্রবাহিত হয় সে সে অংস শক্ত হয়ে যায়। যে কারণে থার্মোপ্লাস্টিক প্রিন্টিং এর মত ডিজাইন এবড়োখেবড়ো হয় না। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্ল্যাস্টিক নষ্ট হয় না। অন্যদিকে তৈরি হওয়া ডিজাইন আপনি যত বেশি সময় রশ্মির ভেতরে রাখবেন ততবেশি শক্ত এবং দৃঢ় হবে। 

৩ডি প্রিন্টার দিয়ে কি করা যায়?

৩ডি প্রিন্টার ব্যবহার করে আপনি কি কি তৈরি হয় তা নিচে দেওয়া হলো। 

খাবার 

৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বর্তমান সময়ে ফুড প্যাকেজিং তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩ডি বায়োপ্রিন্টার দিয়ে একজন ইতালিয়ান বায়োইঞ্জিনিয়ার মাংস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ সামনের দিনে এই প্রযুক্তি ইউজ করে খাবার তৈরি করার প্রচলন শুরু হবে। 

স্থাপত্য

কোন বিল্ডিং মডেল তৈরি করার জন্য বা কোন ডিজাইন প্রোটোটাইপ তৈরি করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার প্রচলন শুরু হয়েছে। তাছাড়া অনেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ছোট ছোট বিল্ডিং পার্ট তৈরি করার গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। আমেস্টারডাম শহরে একটি ঐতিহাসিক ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার পর হুবহু সেই রকম করে একটি মেটাল ব্রিজ থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। 

রেপ্লিকা

কোন মডেল বা ডিজাইন যেমন পুতুল, কাপড়ের ডিজাইন, আক্সেসরিস ইত্যাদির রেপ্লিকা তৈরি করার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে আপনি কোনো ডিজাইন হুবহু কপি তৈরি করতে চাইলে এই পদ্ধতি নির্বাচন করতে পারবেন। বর্তমানে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে অনেক ঐতিহাসিক বিল্ডিং তৈরি করে রাখার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন। 

মেডিকেল ডিভাইস

মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিতে ৩ডি প্রিন্টিং এক অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। বিশেষ করে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরি করা থেকে শুরু করে বডি রেপ্লিকা এবং দেহের বিভিন্ন অর্গান তৈরি করার জন্য এই পদ্ধতি ইউজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শরীরের কোন অর্গানে সমস্যা থাকলে তা যদি ফেলে দিতে হয় তাহলে সেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার জন্য থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে ইমপ্ল্যান্ট তৈরি করা যায়। 

আগ্নেয়াস্ত্র 

থ্রিডি প্রিন্টিং ইউজ করে ফায়ারআর্ম তৈরি করার বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায় রয়েছে। তবে আপনি ক্ষতিকর আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি না করে যদি খেলনা বন্দুক বানাতে চান তাহলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আপনি যেমন অনেক সুন্দর আর সাবলীল ডিজাইন পাবেন তেমনি মনমত স্টাইল পাবেন। 

শিল্পকর্ম

নতুন ও আধুনিক অনেক পোশাক, জুতা ইত্যাদি আমাদের পছন্দ হয়ে থাকে। অনেক সময়ে বেশি দামের কারণে বা স্টক না থাকার কারণে এগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারি না। তাছাড়া প্রোডাকশন জটিলতার জন্য অনেক ডিজাইন বাস্তবতার রূপ দেখতে পারে না। সে দিক থেকে ৩ডি প্রিন্টিং করার মাধ্যমে আপনি সেই ডিজাইন তৈরি করে নিতে পারবেন। যাইহোক, বর্তমানে বিভিন্ন ক্রিয়াবিদদের জন্য থ্রিডি প্রিন্টার ইউজ করে কাস্টম জুতা তৈরি করা হচ্ছে। যা দেখতে অনেক সুন্দর, শক্তিশালী এবং পায়ের মাপে তৈরি করা। 

সার্কিট বোর্ড 

যেহেতু থ্রিডি প্রিন্টিং প্ল্যাস্টিককে গলিয়ে তা শক্ত করে পণ্য তৈরি করে সেহেতু প্ল্যাস্টিক পণ্য ম্যানুফ্যাকচার করার জন্য এটি অনেক সাশ্রয়ী। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বিভিন্ন প্ল্যাস্টিক প্রোডাক্ট যেমন সার্কিট বোর্ড তৈরি করার জন্য আপনি এই পদ্ধতির সাহায্য নিতে পারবেন। যেহেতু সার্কিট বোর্ড তৈরি করা একটি লম্বা প্রসেস এবং এখানে সিএনসি পদ্ধতির প্রয়োজন পরে সেহেতু ৩ডি পদ্ধতি অনেক কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। 

প্রোটোটাইপ

যে কোন ডিজাইন, পণ্য বা বস্তুর প্রোটোটাইপ তৈরি করার জন্য সিএনসি পদ্ধতির পাশাপাশি থ্রিডি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে খরচ যেমন অনেক কম হয় তেমনি কাজ অনেক দ্রুত হয়ে থাকে। 

পরিবহণ

এই প্রিন্টিং পদ্ধতি ইউজ করে বর্তমানে পরিবহনের সাথে জড়িত পণ্য তৈরি করা হয়। যেমন গাড়ির ভেতরের বিভিন্ন অংশ, হ্যান্ডেল, দরজা ইত্যাদি। তাছাড়া পরিবহণ খাতে যত প্ল্যাস্টিক সম্পর্কিত পণ্য প্রয়োজন তা এই মাধ্যম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। 

থ্রিডি প্রিন্টিং কি

3D প্রিন্টিং এর সুবিধা এবং অসুবিধা

নিচে 3D প্রিন্টিং এর সুবিধা এবং অসুবিধা বর্ণনা করা হলো। 

সুবিধা 

  • খরচ অনেক কম
  • বেশি উচ্ছিষ্ট প্ল্যাস্টিক তৈরি করা না
  • অনেক শক্তিশালী পণ্য তৈরি করে
  • পণ্যগুলি অনেক পাতলা হয়ে থাকে
  • পরিবেশ বান্ধব
  • ইচ্ছা মত পণ্য ডিজাইন করা যায়
  • মনমত পণ্য তৈরি করে ব্যবহার করা যায়
  • অনেক দ্রুত আউটপুট পাওয়া যায়
  • ছোট জায়গায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পর্যায় উৎপাদন করা সম্ভব
  • বাল্ক আকারে প্রোটোটাইপিং করা যায়

অসুবিধা

  • প্ল্যাস্টিক ছাড়া অন্য উপাদান ব্যবহার করা যায় না
  • পার্ট পার্ট আকারে ডিজাইন প্রিন্ট করতে হয়
  • বড় আকারে প্রিন্ট করা যায় না
  • কমদামি প্রিন্টার ভালো ফলাফল দিতে পারে না
  • কপিরাইট ইস্যু তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উপরিউক্ত আলোচনায় থ্রিডি প্রিন্টিং কি এটি কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে স্বাস্থ্য, পরিবহণ, স্থাপত্য, রেপ্লিকা, প্রোটোটাইপ ইত্যাদি তৈরি করার ক্ষেত্রে ৩ডি প্রিন্টিং এর ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

Leave a Reply