You are currently viewing ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং ভিআর এর বৈশিষ্ট্যসমূহ 
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি?

প্রযুক্তি দুনিয়ায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স যেমন দ্রুত বিস্তার লাভ করছে তার সাথে সাথে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যাপক প্রচলন হচ্ছে। শুরুতে এটি বিভিন্ন কোম্পানি টেস্ট করার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষ ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে ঝুঁকছে। আমাদের আজকের লেখায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অর্থ হচ্ছে কাল্পনিক বাস্তবতা। এটি টেকনোলজির এমন একটি অবস্থা নির্দেশ করে যা দ্বারা আমরা আমাদের কল্পনাকে বাস্তবে অনুভব করতে পারি। সহজ কথায় বলতে গেলে ভিআর হচ্ছে একটি 3D দুনিয়া যা কম্পিউটার প্রোগ্রাম দ্বারা তৈরি ও পরিচালিত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা আর্টিফিশিয়াল রিয়েলিটি শব্দটি সর্বপ্রথম ১৯৮২ সালে একটি সাইন্স ফিকশন উপন্যাসে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে জারন ল্যানিয়ার ১৯৮০ সালের দিকে এই প্রযুক্তির জন্য সহায়ক হার্ডওয়্যার উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাইন্স ফিকশন গল্প, উপন্যাস এবং মুভির মাধ্যমে এই ধারণা সবার কাছে সুপরিচিতি পেতে থাকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স আসার পর ভার্চুয়াল রিয়েলেটি আরও বেশি সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে এবং জনপ্রিয়তা পেতে থাকে।

২০২১ বা ২০২২ সালের দিকে অনলাইন জগতে সাইবার পাঙ্ক নামক একটি গেম ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই গেমের এত হাইপ তৈরি করার পেছনে ছিল এর গ্রাফিক্স এবং ৩ডি প্রযুক্তির ব্যবহার। এটি এমন একটি গেম যেখানে আপনি খেলার সময় মনে হবে চরিত্র গুলো রিয়েল এবং বাস্তব। মূলত আধুনিক প্রযুক্তি ও অগমেন্টেড রিয়েলিটির সংমিশ্রণে আমাদের কল্পনার মধ্যে থাকা চিন্তা ধারাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার যে প্রচেষ্টা তা হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। নিচে এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও গভীরভাবে আলোচনা করা হলো।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বৈশিষ্ট্য কি

নিচে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বৈশিষ্ট্য গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

নিমগ্নতা

এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি নিজেকে একটি কম্পিউটার দ্বারা তৈরিকৃত দুনিয়ার ভেতরে নিমজ্জিত অবস্থায় দেখতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি যখন ভিআর দুনিয়ায় প্রবেশ করবেন তখন মনে হবে আপনি সারাজীবন যে টিভি স্ক্রিন দেখে আসছেন সেই দুনিয়ায় প্রবেশ করবেন। আপনার ভিআর সেট বা ডিভাইস যত বেশি উন্নত ও ফিচার সমৃদ্ধ হবে আপনি নিজেকে তত বেশি গভীরে নিয়ে যেতে পারবেন। অর্থাৎ ভিআর সেট নির্মাতা যত বেশি ক্রিয়েটিভ হবে আপনি তত ভালো এবং বিস্তারিত ভিউ অনুভব করতে পারবেন।

সংযুক্ততা

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এত বেশি পরিমাণে পপুলারিটি পাওয়ার পেছনে সব থেকে বেশি কাজ করেছে এর বাস্তবিকতার সাথে। অর্থাৎ আপনি যখন ভিআর দুনিয়ায় প্রবেশ করবেন তখন ডিভাইস আপনার মস্তিষ্ক ও চিন্তা-ভাবনার সাথে সংযুক্ত হবে। যে কারণে এই কাল্পনিক দুনিয়ায় আপনি যা স্পর্শ করবেন তা মনে হবে বাস্তব এবং জীবন্ত।

সহজ কথায় বলতে গেলে এই সিমুলেশন দুনিয়ায় আপনি যদি কোন কিছু হাত দিয়ে স্পর্শ করেন তাহলে উক্ত জিনিস বাস্তবে হাত দিয়ে ধরলে যেমন অনুভূতি হত ঠিক তেমন লাগবে। সব থেকে বড় বিষয় আপনি এখান অবজেক্টগুলো নাড়াচাড়া করার পাশাপাশি সেগুলোর স্থান পরিবর্তন করতে পারবেন। এই সিস্টেম মূলত কাজ করে গতি এবং ভাইব্রেশনকে কাজে লাগিয়ে।

বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল

বাস্তবসম্মত ভিজুয়াল তৈরি করার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে উচ্চমানের গ্রাফিক্স ও হাই রেজুলেশনের মনিটর ব্যবহার করা হয়। এই মনিটর এবং গ্রাফিক্সকে কাজে লাগিয়ে অনেক উচ্চ মানের এবং বাস্তবসম্মত ইমেজ এবং ভিডিও ফাইল তৈরি করা হয়। উন্নত গ্রাফিক্সের কারণে ইমেজ এবং ভিডিওগুলোকে বাস্তব এবং জীবন্ত মনে হয়। 

একটি উচ্চ মাত্রার গ্রাফিক্স কীভাবে জীবন্ত ছবি ও ভিডিও আউটপুট দেয় তা জানার জন্য বর্তমান সময়ের গেম গুলো দেখতে পারবেন। বিশেষ করে হাই রেজুলেশনের যে গেমগুলো আছে সেগুলো। একটি ভালো মানের মনিটরের সামনে বসে এই গেম গুলো দেখলে মনে হবে আপনি বাস্তব মানুষ দেখছেন। ভিআর প্রযুক্তিতে মূলত এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

বাস্তবিক সাউন্ড ইফেক্ট

আপনি শুধু একটি ইমেজ বা ভিডিও চোখে দেখে সেখানে উপস্থিত থাকলে কেমন লাগতো সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন না। তবে যদি সেখানে সাউন্ড থাকে তাহলে যে কোন পরিবেশ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুধাবন করতে পারবেন। আসলে মানব বায়োলজি এই ভাবেই তৈরি। আমরা শুধু সাউন্ড শুনে কোন জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে পারি। এখন ধরুন আপনি একটি বনের মাঝখানে রয়েছেন। কিন্তু সেখানে কোনো বাতাসের, পশুপাখি, ডালপালা ইত্যাদির শব্দ নেই।

এখন চোখ বন্ধ রাখা অবস্থায় এই পরিবেশে থাকা আর একটি অন্ধকার রুমের মধ্যে থাকার মধ্যে আপনি কিন্তু কোন পার্থক্য করতে পারবেন না। তবে আপনাকে যদি একটি অন্ধকার ঘরের মধ্যে রেখে স্পিকারে প্রাকৃতিক সাউন্ড দেওয়া হয় তাহলে এমনিতেই আপনি নিজেকে প্রকৃতির মাঝে অনুধাবন করবেন। অন্যদিকে যদি এই অবস্থায় আপনার চোখের সামনে কোন দৃশ্য প্লে করে পেছনে সাউন্ড দেওয়া হয় তাহলে মনে হবে আপনি সেই পরিবেশে রয়েছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে এই জিনিসটা ব্যবহার করা হয়।

হ্যাপটিক সেন্সর কর্মক্ষমতা

এটি আসলে হ্যাপটিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে বিভিন্ন অবজেক্ট স্পর্শ করার মাধ্যমে অনুভব করার ফিচার প্রদান করে। অর্থাৎ আপনি হ্যাপটিক ডিভাইস ইউজ করে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে নিজেকে পুরোপুরি উপস্থিত অনুভব করতে পারবেন। সহজ কথায় আপনি যদি ভিআর দিয়ে গেম খেলেন তাহলে হাতে একটি হ্যাপটিক সেন্সর যুক্ত ডিভাইস নিয়ে গেমের মধ্যে অস্ত্র পরিবর্তন ও আপগ্রেড করতে পারবেন।

প্রোগ্রাম কী? প্রোগ্রামিং কেন শিখবেন?

বাস্তবিক সহযোগিতা

আপনি যদি ফেসবুকের মেটাভার্স উদ্যোগের সাথে পরিচিত হন তাহলে এটি বুঝতে আপনার অনেক সুবিধা হবে। ফেসবুক ভার্চুয়াল রিয়েলটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক নতুন ভার্চুয়াল দুনিয়া তৈরি করছে। যেখানে আপনি তাদের ভিআর ডিভাইস ব্যবহার করে অন্য ইউজারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি চাইলে নিজের রুমে বসে আরেক শহরের আপনার বন্ধুর সাথে মুখোমুখি গল্প করতে পারবেন। এতে আপনি নিজেকে যেমন সোশ্যাল হিসেবে গড়ে তুলতে পারছেন তেমনি স্থানের মধ্যে দূরত্ব অনেক কমে যাচ্ছে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি

৩৬০ ডিগ্রি ভিউ

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির অন্যতম জনপ্রিয় ফিচার হচ্ছে ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ। এই ফিচারের কারণে আপনি ভিআর ডিভাইস দিয়ে আপনার চারপাশের সব কিছুই দেখতে পারবেন। এটি অনেকটা আমাদের চোখের মত। যেমন আমরা খালি চোখে আমাদের চারপাশে কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই দেখতে পারি। ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ ভার্চুয়াল ডিভাইস ব্যবহার করে এই সুবিধা পেতে সাহায্য করে। 

এই ফিচার থাকার কারণে মানুষের মাঝে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার ইচ্ছা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ যখন ভিআর সেটের ভেতরে আমরা প্রবেশ করি তখন আমাদের চারপাশ দেখা যাওয়ার কারণে মনে হয় আমরা বাস্তব দুনিয়ায় রয়েছি। এখানে সামনে পেছনে সহ উপর নিচে সব পাশেই দেখা যায়। যে কারণে আপনি কোন পাহাড়ে ওঠার পাশাপাশি বিশাল মরুভূমির মধ্যে ঘুরতে পারবেন। তাছার এটি ফিচার গেম খেলার জন্য অনেক বেশি সাহায্য করে থাকে।

কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি দুনিয়া তৈরি করা হয় কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করতে। এটি যেমন কাজে গতি বৃদ্ধি করে তেমনি আপনি আপনার নিজের কল্পনা কাজে লাগাতে পারবেন। আপনি চাইলে ভিআর সেট থেকে ডিফল্ট ভাবে দেওয়া গ্রাফিক্স পরিবর্তন করে নিজের তৈরি করা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন। যেহেতু এখানে পরিবর্তন করার মত অনেক সুযোগ এবং সুবিধা রয়েছে সেহেতু ক্রিয়েটিভ কিছু করার সুযোগ থাকছে।

উপরিউক্ত আলোচনায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে কীভাবে ভিআর অদূর ভবিষ্যতে মানুষের জন্য কল্যাণকর হয়ে উঠবে। আশা করি লেখাটি পরে আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেছেন।

Leave a Reply