You are currently viewing অপারেটিং সিস্টেম কি? জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম
অপারেটিং সিস্টেম কি?

অপারেটিং সিস্টেম হল একটি ডিভাইসের প্রাণ কেন্দ্র। আমাদের ব্রেইন যেমন আমাদের চলা ফেরা, কথা বার্তা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি ওএস কোন ডিভাইসের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে। যেখানে কোন ডিভাইস পরিচালনা করার সকল ধরনের ইন্সট্রাকশন বলে দেওয়া থাকে। নিচে অপারেটিং সিস্টেম কি, কীভাবে কাজ করে ও কি কি দিয়ে তৈরি তা আলোচনা করা হলো।

অপারেটিং সিস্টেম কি?

একটি কম্পিউটার ওপেন করে আমরা প্রথমেই যা দেখি তাই অপারেটিং সিস্টেম। ইংরেজি Operating শব্দের অর্থ পরিচালনা করা এবং System শব্দের অর্থ হলো পদ্ধতি। অর্থাৎ কোন কম্পিউটার বা মোবাইল পরিচালনা করার পদ্ধতিকে অপারেটিং সিস্টেম বলে। 

মূলত অপারেটিং সিস্টেম অনেকগুলো প্রোগ্রাম নিয়ে তৈরি থাকে। যেমন কম্পিউটারে কোন MP3 ফাইলে ক্লিক করলে তা একটি মিডিয়া প্লেয়ারে ওপেন হয়ে মিউজিক বাজতে থাকে। অপারেটিং সিস্টেম এখানে ইউজার থেকে মিউজিক প্লে করার কমান্ড নিয়ে তা সফটওয়্যারের মাধ্যমে আমাদের সামনে প্রদর্শিত হয়। 

অর্থাৎ অপারেটিং সিস্টেম হলো অনেকগুলো প্রোগ্রামিং কোডের সমষ্টি যা সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার দ্বারা কমান্ড গ্রহণ করে তা প্রসেসর দিয়ে বিশ্লেষণ করে ডিসপ্লে তে প্রদর্শন করার জন্য যা যা করতে হয় তার সব কিছুই OS করে থাকে।

অপারেটিং সিস্টেম এর কাজ কি?

অপারেটিং সিস্টেম এর কাজ কি?

অপারেটিং সিস্টেম এর প্রধান কাজ হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপন করা। ওএস তৈরি করার সময় লজিক এবং ফাংশন তৈরি করে কোড লেখা হয়। সেখানে কোন সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করবে এবং কি কি রিসোর্স ব্যবহার করবে তার সব কিছু তৈরি করে দেওয়া থাকে। নিচে অপারেটিং সিস্টেমের কিছু কাজ বর্ণনা করা হলো। 

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার পরিচালনাঃ আমি বর্তমানে যে কিবোর্ড দিয়ে লিখছি তা একটি হার্ডওয়্যার। এটি একটি লম্বা তার দিয়ে কম্পিউটারের সিপিইউ এর সাথে সংযুক্ত। তো কম্পিউটার কীভাবে বুজতে পারছে যে কিবোর্ডে যা টাইপ করা হবে তা যেন সে তার প্রোগ্রামে প্রদর্শন করে? এখানে অপারেটিং সিস্টেম তার ভেতরে থাকা ইউএসবি ড্রাইভার দ্বারা কিবোর্ড কে একটি ইনপুট ডিভাইস হিসেবে ডিটেক্ট করছে এবং এখানে টাইপ করা লেখা মনিটরে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রদর্শিত করছে। 

এই ধরনের সকল সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার কানেকশন পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন পরে অপারেটিং সিস্টেমের। 

ইউজার ইন্টারফেস পরিচালনা করাঃ শুরুর দিকে যখন কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয় তখন আজকের মত এত সুন্দর ইন্টারফেস ছিল না। এমনকি তখন কম্পিউটার পরিচালনা করার জন্য ইনপুট ডিভাইস হিসেবে মাউস ছিল না। কমান্ড লাইন ইউজ করে কম্পিউটার পরিচালনা করা হত। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এবং কম্পিউটারকে সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহার উপযোগী করে তোলার নিমিত্তে অপারেটিং সিস্টেমে ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করা হয়। 

আজকে আমরা একটি মাউসের ক্লিকে অনেক কিছুই করতে পারি যা সরাসরি দেখা যায় না। তবে প্রতিটি মাউস ক্লিক কাজ করার জন্য অপারেটিং সিস্টেম অনেকগুলো ইভেন্ট, ফাংশন এবং লজিক পরিচালনা করে। 

নেটওয়ার্কিংঃ ইন্টারনেট চালানোর জন্য আমাদের নেটওয়ার্কের প্রয়োজন পরে। এই নেটওয়ার্ক কীভাবে কম্পিউটারে ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ করার কাজ করে অপারেটিং সিস্টেম। অর্থাৎ কম্পিউটারে ইন্টারনেট চলানোর জন্য প্রয়োজন হয় ড্রাইভার সফটওয়্যারের। এই ড্রাইভার সফটওয়্যার সিপিইউ এর সাথে নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার সংযুক্ত করে। 

তারপর সেই নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দিয়ে যেন কোনো প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার চালানো যায় সেই ব্যবস্থা করা থাকে। এতে আমরা নেট কানেকশন দিয়ে ব্রাউজারের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হতে পারি। 

ফাইল ম্যানেজমেন্টঃ কম্পিউটারে ফাইল ম্যানেজমেন্ট করার জন্য অপারেটিং সিস্টেম প্রয়োজন। বিশেষ করে স্টোরেজ হার্ডওয়্যার সংযুক্ত করা, পার্টিশন ম্যানেজ করা, র‍্যাম ম্যানেজ করা, কোর লেভেলের সকল কাজ করার জন্য যে স্টোরেজ সিস্টেম আছে তা পরিচালনা এবং মডিফাই করার কাজ করে অপারেটিং সিস্টেম। 

ডিভাইস ম্যানেজমেন্টঃ কম্পিউটার এক্সটারনাল ডিভাইস হিসেবে শুধু ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস চিনতে পারে। আমরা কম্পিউটারে যে ধরনের এক্সটারনাল ডিভাইস যেমন মাউস, কিবোর্ড, প্রিন্টার, মনিটর, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি দেখতে পাই তার সবগুলো ইনপুট আউটপুট ডিভাইসের আওতায় পরে। 

এই ডিভাইস গুলো সংযুক্ত ও পরিচালনার কাজ করে থাকে ওএস। কোন ডিভাইস কীভাবে কোন প্রোগ্রামের সাথে কাজ করবে তা ওএস এর মাধ্যমে নির্ধারণ করা থাকে। 

ইউজার ম্যানেজমেন্টঃ প্রতিটি ডিভাইস ইউজ করার জন্য ইউজার অ্যাকাউন্ট থাকে। অপারেটিং সিস্টেম এই ইউজার অ্যাকাউন্ট গুলো তৈরি, মডিফাই বা ডিলিট করার কাজ করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ইউজার অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা আলাদা ফিচার এবং অপশন নির্ধারণ করে দেওয়ার কাজ করে অপারেটিং সিস্টেম। 

ট্রাবলশুটিংঃ ডিভাইস পরিচালনা করার সময় বিভিন্ন ইরর দেখা দেয়। ওএস সেগুলো রিপোর্ট করে এবং তা সমাধান করার চেষ্টা করে। যদি ব্যর্থ হয় তবে অপারেটিং সিস্টেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার জন্য রিপোর্ট করে।

অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে তৈরি করে?

অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা অনেক কঠিন একটা কাজ। এখানে শুধু প্রোগ্রামিং জানলেই ওএস তৈরি করা যায় না। প্রোগ্রামিং জ্ঞানের সাথে আরও যা যা জানতে হয় তা নিচে দেওয়া হলো।

ফার্মওয়্যারঃ ফার্মওয়্যার কোন একটি হার্ডওয়্যারকে কন্ট্রোল করার জন্য একটি ছোট এমবেড প্রোগ্রাম। BIOS এবং UEFI হলো ফার্মওয়্যার প্রোগ্রাম যা অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করতে গেলে আপনার প্রয়োজন পরবেই। 

বুটলোডারঃ কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় সর্বপ্রথম কাজ করে ফার্মওয়্যার। এরপর যে লোডিং অংশ আসে তা হলো বুটলোডার। এটি একটি ছোট প্রোগ্রাম যা ফার্মওয়্যার থেকে তথ্য নিয়ে কম্পিউটারের সিস্টেম মেমোরি বা র‍্যাম লোড করে। র‍্যাম লোড না হলে কোন ভাবেই প্রসেসর চালু হবে না। অতএব যখন কোন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করার হয় তখন সেখানে বুটলোডার তৈরি করে সংযুক্ত করতে হয়। 

কার্নেলঃ একটি অপারেটিং সিস্টেমের মূল ভিত্তি হলো কার্নেল। সাধারণত যখন কম্পিউটার ওপেন করা হয় তখন পর্যায়ক্রমে ফার্মওয়্যার এবং বুটলোডার লোড হওয়ার পর র‍্যাম চালু হয়। র‍্যাম চালু হওয়ার পর পুরো কম্পিউটার কার্নেল থেকে চালু হতে শুরু করে। 

কার্নেল অনেক বড় একটি প্রোগ্রাম যার উপর ভিত্তি করে অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয়। কার্নেলের ভেতরে প্রধানত যে যে বিষয় সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে নিচে ধারণা দেওয়া হলো। 

  • গ্রাফিক্সঃ কম্পিউটার ওপেন হওয়ার পর আমরা যে লেখা বা ভিজুয়াল দেখি তার সব কিছুই গ্রাফিক্স। শুরুর দিকে কম্পিউটার পরিচালনা করা হত কমান্ড লাইন ইন্টারফেসে। পরবর্তীতে ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট প্রযুক্তি আসার কারণে সুন্দর ইউজার ইন্টারফেস নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম পাওয়া যায়। একটি ওএস এর গ্রাফিক্স তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করা হয় কার্নেল এর মাধ্যমে। 
  • মেমোরি ম্যানেজমেন্টঃ অপারেটিং সিস্টেম পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন পরে মেমোরি ম্যানেজমেন্টের। যে যে ফাংশন এবং প্রোগ্রাম মেমোরি ম্যানেজ করার জন্য প্রয়োজন তা কার্নেল দ্বারা পরিচালিত হয়। 
  • ডিভাইস ম্যানেজমেন্টঃ কি কি ডিভাইস কম্পিউটারে সংযুক্ত হবে এবং তারা কীভাবে কাজ করবে তা কার্নেল থেকে প্রোগ্রাম করা থাকে। অর্থাৎ সকল ধরনের ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট পরিচালনা করে থাকে কার্নেল। 
  • ইভেন্ট হ্যান্ডেলিংঃ পুরো অপারেটিং সিস্টেম কনসেপ্ট ইভেন্ট হ্যান্ডলিং এর সাথে জড়িত। কারণ ওএস তার সকল কার্যক্রম ইভেন্ট আকারে ভেঙে ভেঙে পরিচালনা করে। কার্নেল থেকে এই সকল ইভেন্ট হ্যান্ডলিং বিহেভিয়ার পরিচালিত হয়। 

সার্ভার কি? সার্ভার কিভাবে কাজ করে?

জনপ্রিয় কিছু অপারেটিং সিস্টেম

জনপ্রিয় কিছু অপারেটিং সিস্টেম

নিচে বর্তমান সময়ের কিছু জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলো। 

উইন্ডোজঃ উইন্ডোজ একটি অতি জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম যা মাইক্রোসফট কোম্পানি দ্বারা তৈরি। বর্তমানে বিশ্বের ৭০% ডিভাইসে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এটি দেখতে অনেক সুন্দর এবং এর ফাংশনালিটি অনেক সহজ। এই কারণে সাধারণ ইউজের জন্য উইন্ডোজ এর বিকল্প নেই।  

ম্যাকঃ ম্যাক ওএস অ্যাপল এর তৈরি করা একটি অপারেটিং সিস্টেম। বিশ্বে যতগুলো অ্যাপল কম্পিউটার আছে তার সবগুলো এই ওএস দিয়েই চলে। বর্তমান অপারেটিং সিস্টেম মার্কেটের ২৮% ম্যাক এর দখলে। সিকিউরিটি এবং পারফরমেন্স এর দিক দিয়ে ম্যাক অদ্বিতীয়। 

লিনাক্সঃ লিনাক্স সাধারণত একটি কার্নেল। উইন্ডোজ এবং ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমও কার্নেলের উপর নির্ভর করে তৈরি। যাইহোক, লিনাক্স ওএস বলতে আমরা বুঝি এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা ডিস্ট্রো গুলোকে। সময়ের সাথে সাথে লিনাক্স এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি  পাচ্ছে।  

অ্যান্ড্রয়েডঃ অ্যান্ড্রয়েড একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম। এটিও মডিফাইড লিনাক্স কার্নেলের উপরে নির্ভর করে তৈরি করা ওএস যা শুধু মোবাইলের জন্য প্রযোজ্য। অ্যাপল IOS বাদে সকল স্মার্টফোন অ্যান্ড্রয়েডের উপর প্রতিষ্ঠিত। 

আসা করি এই আলোচনা পড়ে অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে আপনার সকল কৌতূহল মিটে গেছে। এখানে অনেক সুন্দর করে ওএস কি , কীভাবে কাজ করে এ সকল বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

Leave a Reply