You are currently viewing ব্লগিং কি? ব্লগিং কিভাবে শুরু করবেন?

অনলাইনে কোন বিষয়ে জানার জন্য সার্চ করলেই হাজার হাজার তথ্য আমাদের সামনে চলে আসে। অনুসন্ধানে থাকা ওয়েবসাইটগুলো ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে তথ্যনির্ভর ওয়েবসাইটের মধ্যে অনেক ব্লগ ওয়েবসাইট আছে। এছাড়া ইউটিউব ও ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা ব্লগ, ব্লগার বা ব্লগিং নামক শব্দগুলোর সাথে পরিচিত। আমাদের আজকের লেখায় আমরা ব্লগিং কি, কেন করা হয় এবং কীভাবে শুরু করতে হয় সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করার চেষ্টা করবো। 

ব্লগিং কি?

ব্লগ হলো ইংরেজি Weblog এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ১৯৯৭ সালে জন বারজার নামক একজন মার্কিন নাগরিক সর্ব প্রথম Weblog শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে ওয়েবলগ শব্দটিকে ভেঙে We এবং Blog এই দুই নামে বিভক্ত করা হয় যার অর্থ দাঁড়ায় আমরা ব্লগ করি।

ব্লগ এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো ডাইরি। অর্থাৎ আমরা একটি ডাইরিকে যেভাবে ইউজ করি ব্লগ ঠিক সেই কাজের জন্যই ব্যবহৃত হয়। সময়ের সাথে সাথে ব্লগ ধারণার উৎপত্তিগত অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। বর্তমান এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ব্লগ অর্থ বুঝায় ইন্টারনেটে ব্লগ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেখালেখি করা। যারা এই ব্লগে লেখালেখি করে এবং মেইন্টেইন করে তাদের ব্লগার বলা হয়। 

ব্লগারের ব্লগ লেখার যে প্রক্রিয়া তাকে যৌথভাবে ব্লগিং বলা হয়। ব্লগিং বর্তমান সময়ের ইন্টারনেট নির্ভর একটি অনেক জনপ্রিয় পেশা। যারা ব্লগ লেখে তারা সাধারণত কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর অভিজ্ঞ হয়। তারা তাদের অভিজ্ঞতা নিয়মিত ভাবে ব্লগে লিপিবদ্ধ করে রাখে। সেই লেখা পড়ে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের নানা সমস্যা সমাধান করে। 

তো, ব্লগিং হলো একটি ডাইরি বা ম্যাগাজিন যেখানে একজন ব্লগার তার অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ লেখা, ছবি এবং ভিডিও এর মাধ্যমে শেয়ার করে।   

ব্লগিং কেন করবেন?

ব্লগিং করার উদ্দেশ্য সাধারণত দুই প্রকার হয়। প্রথমত নিজের জ্ঞান সবার জন্য উন্মুক্ত করার জন্য, দ্বিতীয়ত ইনকাম করার জন্য। বর্তমান সময়ে প্যাসিভ ইনকাম সোর্স হিসেবে ব্লগিং সবার প্রথমে আসে। কারণ ইন্টারনেট থেকে আয় করার জন্য ব্লগ অনেক ভালো একটি উৎস। 

যাইহোক, এই সময়ে সবাই ব্লগ তৈরি করে সাধারণত আয় করার জন্যই। একজন শিক্ষক যেমন তার নতুন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে উপার্জন করে তেমনি একজন ব্লগার তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অনলাইনে ইনকাম করে।

আপনি ব্লগিং করার কারণে কি কি অর্জন করবেন তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ- 

  • আপনি যখন আপনার ব্লগে লিখবেন তখন অনলাইনে আপনার একটি পরিচিতি তৈরি হবে। দেখা যাবে গুগলে আপনার নাম লিখে সার্চ দিলে আপনার তথ্য পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ইন্টারনেটে আপনার একটি ইউনিক অস্তিত্ব বা পরিচিতি তৈরি করতে ব্লগিং আপনাকে সাহায্য করবে। 
  • ব্লগ লিখে বিভিন্ন উপায়ে আয় করা যায়। যেহেতু আমাদের সমাজে টিকে থাকতে গেলে আয় করতে হবে সেহেতু নিজের পারদর্শিতার বিনিময়ে যদি কিছু আয় হয় তবে তা হবে সোনায় সোহাগা। প্রতি বছর বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাবলিশ হয়ে যেখানে দেখা যায় ব্লগ লিখে অনেকেই স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছে। অতএব, ব্লগিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার জন্য ব্লগ লিখতে পারেন।
  • ব্লগ লিখে আপনি সাম্প্রতিক সময়ের জানা-অজানা বিষয় মানুষকে জানাতে পারবেন। এতে অনেক মানুষের উপকার হবে। কারণ আমরা প্রায় সময় কোন সমস্যায় পরলে যখন অভিজ্ঞ কাউকে হাতের নাগালে না পাই তখন গুগলে সার্চ করি। গুগলে তখন উক্ত সমস্যার সমাধান যার ব্লগে আছে সেখানে নিয়ে যায়। 
  • ব্লগ হলো একজন মানুষের মতামত বা অভিব্যক্তি জানানোর উপযুক্ত জায়গা। এখানে আপনি সাম্প্রতিক বিষয়ের উপর আপনার চিন্তা-চেতনা ও মতামত প্রকাশ করতে পারবেন। 
  • ব্লগিং করার কারণে আমরা যেমন অন্যদেরকে নতুন বা অজানা তথ্য দিতে পারি তেমনি নিজের জানার জন্য ব্লগের সাহায্য নিতে পারি। কারণ পৃথিবীর কোন মানুষ সবজান্তা নয়। জ্ঞান আহরণের জন্য আমাদের অন্য কারো শরণাপন্ন হতে হয়।

ব্লগিং কিভাবে শুরু করবেন?

ব্লগিং শুরু করা অনেক সহজ একটি বিষয়। ব্লগ শুরু করার আগে আপনাকে কিছু বিষয় নির্ধারণ করে নিতে হবে, যেমনঃ- 

  • কোন বিষয়ের উপর ব্লগ লিখবেন?
  • কাদের জন্য লিখবেন? 
  • এর থেকে কি আয় করবেন? 
  • প্রি-প্লানিং 

উপরিউক্ত বিষয়গুলো যখন আপনার কাছে প্রস্তুত থাকবে এর পর শুরু হবে ব্লগিং এর আসল যাত্রা। চলুন ব্লগিং কীভাবে শুরু করবেন সে সম্পর্কে জেনে নাই। 

ব্লগ এর নাম নির্ধারণঃ ব্লগ তৈরি করার প্রথমে আপনাকে একটি সুন্দর নাম নির্ধারণ করে নিতে হবে। এই নাম পরবর্তীতে আপনার ব্লগ এর ডোমেইন নেম হবে। এই ডোমেইন নেম দিয়েই আপনার ব্লগ ইন্টারনেটে পরিচিতি পাবে। 

ডোমেইন হোস্টিং ক্রয়ঃ ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য সবার প্রথম প্রয়োজন হয় ডোমেইন এবং হোস্টিং এর। ব্লগ যেহেতু একটি ওয়েবসাইট সেহেতু ব্লগিং শুরু করার আগে ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে। তো ডোমেইন কেনার জন্য আপনার পূর্বনির্ধারিত ব্লগ নাম দিয়ে ডোমেইন রেজিস্টার করে নিতে হবে। ডোমেইন নেওয়া হলে কোন রেপুটেড হোস্টিং কোম্পানি থেকে হোস্টিং স্পেস নিতে হবে। 

ওয়েবসাইট তৈরিঃ আপনি ফ্রি এবং পেইড দুইভাবেই ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য গুগলের blogger.com নামে একটি সার্ভিস আছে। সাধারণত ব্লগ তৈরি করার জন্যই গুগল এই সার্ভিস সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এখানে আপনি চাইলেই আপনার ডোমেইন অ্যাড করে ব্লগিং করতে পারবেন। 

অন্যদিকে ডোমেইন হোস্টিং ব্যবহার করে WordPress এ সুন্দর ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য একটি আদর্শ প্লাটফর্ম। যাইহোক, একজন ব্লগার ওয়েবসাইট ছাড়া একজন রাজ্য ছাড়া রাজার মত।

ওয়েবসাইট ডিজাইনঃ ব্লগ ওয়েবসাইট গুলো সাধারণত খুব সাদামাঠা হয়। কারণ ব্লগে ভিজিটর আসে কনটেন্ট দেখার জন্য বা পড়ার জন্য। হযবরল ডিজাইন থাকলে সেখানে ভিজিটর ব্লগ দেখে শান্তি পাবে না। এতে ব্লগ তৈরি করার উদ্দেশ্য বিফলে যাবে। তাই সাধারণ একটি ডিজাইন দিয়ে ব্লগ লেখা শুরু করা উচিত। 

সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিটঃ সফলভাবে ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করার পরের কাজ হলো কিছু কনটেন্ট বা ব্লগ লিখে তা সাইটে পাবলিশ করা। তারপর উক্ত ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল এবং বিং এ ইনডেক্স করার জন্য সাবমিট করতে হবে। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আপনার ব্লগ সহজেই খুঁজে বের করতে পারবে। 

নিয়মিত ব্লগ আপডেটঃ ব্লগ এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটের প্রধান পার্থক্য হলো ব্লগ প্রতিদিন আপডেট হয়। অর্থাৎ আপনাকে নিয়মিত ব্লগ আপডেট দিতে হবে। আপনার ব্লগের ক্যাটাগরি হিসেবে কতদিন পর পর ব্লগ আপডেট করবেন তা নির্ভর করে। তবে আপনাকে নিয়মিত ওয়েবসাইটের কনটেন্ট আপডেট করতে হবে ও নতুন ব্লগ পাবলিশ করতে হবে। 

এসইও করাঃ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে ব্লগে ভিজিটর আনতে হবে। যখন ব্লগ শুরু করবেন তখন নিজের প্রয়োজনে এসইও করার পদ্ধতি অন্য জনের ব্লগ পড়ে শিখে নিতে পারবেন। 

মনিটাইজেশনের জন্য আবেদনঃ বর্তমান সময়ে যেহেতু ব্লগিং করে আয় করা যায়, সেহেতু আপনার ব্লগে যখন নিয়মিত ভিজিটর আসতে থাকবে তখন অ্যাডসেন্স বা ইজয়িক এর মত অ্যাড নেটওয়ার্কে সাইট সাবমিট করে মনিটাইজেশন পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। 

উপরের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে যখন একটি ব্লগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন উক্ত ব্লগ ওয়েবসাইট একটি সম্পদে পরিণত হবে এবং প্যাসিভ ইনকামের দ্বার উন্মোচন হবে। 

ব্লগিং ইন্টারনেট পাড়ায় একটি বহুল পরিচিত শব্দ। ব্লগ তৈরি করে অনেক তরুণ-তরুণীরা সফলতার সাথে তাদের ক্যারিয়ার তৈরি করছে যা তাদের আগত দিনের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করছে। এই লেখায় ব্লগ কীভাবে ক্যারিয়ার তৈরি করে দিতে পারে সেই সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

Leave a Reply